
বাংলা রিডার ডেস্ক
আজ থেকে পবিত্র ও বরকতময় রমজান মাস শুরু হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার পর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে রমজানের সূচনা ঘোষণা করে। ভোরে সাহরি গ্রহণের মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার শুরু করেছেন।
রমজান ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের বিশেষ সময়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজাদাররা পানাহার, ধূমপান ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন। পাশাপাশি মিথ্যা, গীবত, হিংসা ও অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা রোজার অন্যতম শিক্ষা। আলেমরা বলছেন, রমজান মানুষকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও মানবিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে তারাবির নামাজের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। মুসল্লিরা মসজিদে জামাতে নামাজের পাশাপাশি ঘরে বসেও নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারে সময় কাটানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রমজানকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। খেজুর, ছোলা, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দাম সহনীয় রাখতে প্রশাসন বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে, বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও ধর্মীয় সংগঠন অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছে। অনেক মসজিদ ও প্রতিষ্ঠান গণইফতারের আয়োজন করছে। ইসলামিক চিন্তাবিদরা বিত্তবানদের দান-সদকা ও যাকাত প্রদানে উৎসাহিত করছেন।
চিকিৎসকরা রোজাদারদের স্বাস্থ্য সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সাহরি ও ইফতারে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় নিমগ্ন থাকবেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



