
বাংলা রিডার ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সব জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এ নিয়োগ চূড়ান্ত হবে। ইতোমধ্যে ফাইনাল ফিটলিস্ট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এরই মধ্যে সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আলোচিত কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম, যিনি বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার ডিসি নিয়োগে কোনো বিতর্কিত কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের স্থান দেওয়া হবে না। কেউ যদি তথ্য গোপন করে নিয়োগ পান এবং পরে তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ২৫তম ও ২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৬৯ জন উপসচিবকে ছয় ধাপে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেখান থেকে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে ডিসি পদে ফিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন চলছে ২৮তম ব্যাচের সাক্ষাৎকার।
বর্তমানে ডিসি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন: ২৪তম ব্যাচ: ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচ: ২৫ জন, ২৭তম ব্যাচ: ১২ জন। তবে ২৪তম ব্যাচের ২১ জন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেও মাঠ প্রশাসন থেকে এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ৬১ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভেতরে বিরাট বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। কিছু কর্মকর্তা মারামারি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছিল।
বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিবের পদ খালি থাকায় ভারপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে চললেও, অনেকের অভিযোগ—অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রশাসনের গতিশীলতা ও দক্ষতায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
প্রশাসনের একাংশ বলছে, এক দশক আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা বর্তমান ডিজিটাল প্রশাসনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন, ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি ও অনীহা তৈরি হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ) মো. এরফানুল হক বলেন, “ডিসি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কবে দেওয়া হবে, তা জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আশা করছি দ্রুতই চূড়ান্ত হবে।”
সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস-উর রহমান বলেন, “ডিসিদের নিয়োগ হবে ফিটলিস্ট থেকেই। নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।”
সাবেক সচিব ও প্রশাসন বিশ্লেষক এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “বর্তমানের মতো অস্থিরতা আগের কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ছিল না। এখনো সময় আছে—সরকার যদি যোগ্য, সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়, তাহলে প্রশাসন আবার গতিশীল হবে।”
‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি’ নামে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে—যার সদস্যরা হলেন চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিব। এ কমিটিই ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার, যুগ্ম সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও বদলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।



