ঈদের নামাজে যুদ্ধ বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

বাংলা রিডার ডেস্ক

আজ (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর মুসলমানরা তাদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে।

এদিন, জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে শুরু হয় খুতবা। এরপর দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে মুসলিমরা তাদের এক মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তওবা করার জন্য আল্লাহর কাছে তৌফিক প্রার্থনা করেন এবং দেশকে হেফাজত ও শান্তির জন্য দোয়া করা হয়।

বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ, বিশেষত ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের প্রসঙ্গ তুলে মোনাজাতে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশে মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুসলিম দেশগুলোর একান্ত দায়িত্ব।”

এছাড়া মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়। সর্বসাধারণের সুখ, শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্যও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এবারের ঈদ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে, তারেক রহমান একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। জামাতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতারা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সাধারণ মুসল্লিরা।

জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদ জামাতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের সংরক্ষিত ব্যবস্থা, পাশাপাশি পর্যাপ্ত অযুখানা এবং মেডিকেল টিমের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। এবারের জামাতে মোট ৩৫,০০০ মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা ছিল, যার মধ্যে সাড়ে ৩,০০০ নারী উপস্থিত ছিলেন।

ঈদ জামাতের আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You