
বাংলা রিডার ডেস্ক
পল্লীকবি জসীম উদদীনের কালজয়ী কবিতা ‘কবর’-এর শতবর্ষ উদযাপন করেছে প্রগতিশীল সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি এবং ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশ।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে চাঁদপুর রোটারী ভবনে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধনী ফিতা কাটেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মতো আত্মীয়-সম্পর্কে এত আবেগময় জাতি পৃথিবীতে বিরল। ‘কবর’ কবিতায়ও এই আত্মীয়তার গভীর রূপ আমরা পাই—ত্রিশ বছর পর মৃত স্ত্রী ও স্বজনদের স্মরণ করে এক বৃদ্ধের আকুতির হৃদয়ছোঁয়া চিত্র তুলে ধরেছেন কবি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান অ্যাড. আলেয়া বেগম লাকী, সঞ্চালনায় ছিলেন চর্যাপদ একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি জামসেদ ওয়াজেদ বলেন, “জসীম উদদীনকে শুধু ‘পল্লীকবি’ বলে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তিনি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। তাঁর সম্মানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠান হওয়া উচিত, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণও তাঁর নামে হওয়া উচিত।” চর্যাপদ একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “জসীম উদদীনের সাহিত্য মানেই আমাদের শিকড়ের ঘ্রাণ।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন: সোহেল মো. ফখরুদ-দীন – বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদের সভাপতি ডা. মআআ মুক্তাদীর – ভাষা আন্দোলন স্মৃতি রক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন: অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র দাস (উদীচী, চাঁদপুর), শিউলী মজুমদার (সহ-সভাপতি, চর্যাপদ একাডেমি), আসাদুল্লা কাহাফ (চেয়ারম্যান, নিয়ন্ত্রণ পরিষদ), ফেরারী প্রিন্স, জয়ন্তী ভৌমিক, আইরিন সুলতানা লিমা, রাসেল ইব্রাহীম, অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম (রেলওয়ে কিন্ডারগার্ডেন), ফয়সাল ফরাজী (জেলা স্কাউটস সম্পাদক), ওমর বিন ইউসূফ চৌধুরী (রেড ক্রিসেন্ট উপদেষ্টা), মোহাম্মদ শাহ আলম (সদস্য সচিব, বাস্তবায়ন পরিষদ), রোটারিয়ান শাহীন আক্তার, সায়রা কাকলি, রবীন্দ্র মজুমদার, মুদ্দাসির প্রমুখ
উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব রফিকুজ্জামান রণি বলেন, “জসীম উদদীনের কবিতায় মাটির গন্ধ থাকে। ‘কবর’ কবিতায় গ্রামীণ জীবনের করুণ বাস্তবতা অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।”
সভাপতির বক্তব্যে আলেয়া বেগম লাকী জানান, “আমরা কবির জন্মস্থান ঘুরে এসে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো কাছ থেকে দেখেছি। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন চালিয়ে যেতে চাই।”
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন: মিজানুর রহমান স্বপন, সাকিব খান, দীপান্বিতা দাস, মোহাম্মদ শাহজালাল মিয়াজী আবেদ, আবদুর রহিম, প্রাপ্তি ও শ্রাবন্তী দাস। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিলেন: দিলীপ ঘোষ (হাওয়াইয়ান গিটার), বেলাল শেখ (বাঁশি), নৃত্যধারা-র শিল্পীদের পরিবেশনায় কবির গান ও কবিতায় নৃত্য, নির্দেশনায় সোমা দত্ত।
চট্টগ্রাম, রংপুর, বরিশাল, ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ১৫ জনকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।
উপহারসামগ্রী হিসেবে দেওয়া হয় ক্যাপ, ব্যাগ, বই, কলম, স্মারক ফোল্ডার এবং স্ন্যাকস। উপলক্ষ্য উপলক্ষে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে রোভার স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্ট ও গার্লস গাইড সদস্যরা অংশ নেন।
পুরো আয়োজনটি ছিল পল্লীকবি জসীম উদদীন ও তাঁর কালজয়ী কবিতা ‘কবর’-কে ঘিরে আবর্তিত—একটি কবিতা কীভাবে শত বছর পরেও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে, এই অনুষ্ঠান তারই এক প্রমাণ।



