
বাংলা রিডার ডেস্ক
গাজার উদ্দেশ্যে যাওয়া মানবিক সহায়তা জাহাজ আটক করার পর ইসরায়েলি বাহিনী সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ আটকদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ এনেছেন তুরস্কের মানবাধিকার কর্মীরা।
রোববার (৫ অক্টোবর) তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, গ্রেটা থুনবার্গ আটক কর্মীদের মধ্যে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, তাকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া হয়েছে, হামাগুড়ি দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানোর ঘটনাও ঘটেছে।
গ্রেটা থুনবার্গ গত জুনে ‘ম্যাডলিন’ নামের জাহাজে করে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু গাজার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজটি আটক করে। পরে তিনি ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের ত্রাণ বহনকারী মিশনের অংশ হিসেবে ফের ইসরায়েলের হাতে বন্দি হন।
তুরস্কের মানবাধিকারকর্মী এরসিন চেলিক বলেন, “আমাদের সামনেই গ্রেটাকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে দেখা গেছে। তাকে জোর করে ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খেতে বাধ্য করা হয়েছে, যা এক রকম মানবিক লাঞ্ছনার মতো।” তিনি আরও জানান, গ্রেটাকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয়েছে কারণ সে বিশ্বব্যাপী পরিচিত মুখ।
মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার অভিযোগ করেন, থুনবার্গকে ‘ইসরায়েলি কট্টরপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রীর প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’ ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো বলেন, “২২ বছরের এক সাহসী নারীকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা মানবতার জন্য লজ্জার বিষয়।”
মালয়েশীয় অধিকারকর্মী হাজওয়ানি হেলমি জানায়, “আমাদের খাবার, পানি ও ওষুধ দেওয়া হয়নি, টয়লেটের পানি খেতে হয়েছে এবং প্রচণ্ড গরমে শারীরিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।”
আটককেন্দ্রে রক্তের দাগ ও বন্দিদের লেখা বার্তা দেখা গেছে বলে জানান অন্য এক কর্মী আয়সিন কানতোগ্লু। তিনি বলেন, “দেয়ালে লেখা ছিল সন্তানের ও মায়ের নাম, যা ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণার ছোট্ট এক ঝলক।”
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’ জানিয়েছে, আটক কর্মীদের হাত জিপ-টাই দিয়ে বাঁধা ছিল, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে, ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আটক ব্যক্তিদের খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ছিল গাজার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ ভাঙার জন্য সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মানবিক প্রচেষ্টা। গত ১ ও ২ অক্টোবর ইসরায়েলি নৌবাহিনী ফ্লোটিলার ৪০টি নৌকা আটক করে, যেখানে ৪৫০-এর বেশি যাত্রী ছিলেন। শনিবার থেকে বন্দিদের মুক্তি শুরু হয়।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, ২৬ ইতালীয় বন্দিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তবে এখনও ১৫ জন আটক রয়েছেন। ইতালির সংসদ সদস্য আর্তুরো স্কোত্তো বলেন, “ফ্লোটিলার কর্মীরা আইনগত কাজ করছিলেন, যারা গাজার সাহায্যে বাধা দিয়েছে তারা অবৈধ।”
এদিকে, শনিবার বিকেলে মানবিক মিশনের সদস্যদের বহনকারী একটি বিমান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছে। বিমানটি ইসরায়েলের রামন বিমানবন্দর থেকে এসেছিল এবং এতে ১৩৭ জন ছিলেন, যাদের মধ্যে ৩৬ জন তুর্কি ও ২৩ জন মালয়েশীয় নাগরিক। তবে গ্রেটা থুনবার্গকে ইসরায়েল থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: আল জাজিরা


