
বাংলা রিডার ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র চার দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। সম্ভাব্যতা যাচাই ও উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে ইতোমধ্যে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বেপজার এ উদ্যোগকে ঘিরে চাঁদপুরজুড়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইপিজেড স্থাপিত হলে জেলায় শিল্পায়নের প্রসার ঘটবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জানা গেছে, গঠিত কমিটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন, অবকাঠামোগত সক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করে প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষিত তরুণ ও চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকায় কর্মসংস্থানের জন্য অনেককে অন্য জেলায় যেতে হয়। ইপিজেড স্থাপিত হলে জেলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
গত ১৬ মে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন। এর প্রেক্ষিতে সোমবার (২০ মে) বেপজার প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীসংলগ্ন এলাকা কিংবা জেলার অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করবে কমিটি। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বেপজার সদস্য (প্রকৌশল)। সদস্য সচিব করা হয়েছে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মীরসরাই প্রকল্পের পরিচালককে। এছাড়া বেপজার বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, চাঁদপুরে নতুন ইপিজেড স্থাপনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, স্থানীয় উপযোগিতা এবং অবকাঠামোগত সুবিধা যাচাই করা হবে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপিত হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ইপিজেড প্রকল্পের পাশাপাশি মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এর সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ বলেন, চাঁদপুরে মেঘনা নদীর অববাহিকায় ইপিজেড স্থাপন করা হলে দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গতি সঞ্চার হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চাঁদপুর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, ‘শুধু ইপিজেড নির্মাণই নয়, চাঁদপুরে বড় ধরনের আরও কী কী উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে, সেই বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে দেয়া হয়েছে। আশা করছি, তিনি জেলাবাসীর প্রাণের দাবিগুলো অবশ্যই পূরণ করবেন।’
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সলিম উল্ল্যাহ সেলিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁদপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। রিভার ড্রাইভসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।”


