
বাংলা রিডার ডেস্ক
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দেওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কিছু বিতর্কিত অধ্যায়ও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের যে মাত্রার মুখোমুখি হয়েছেন, তা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরল। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, রুচি ও বাহ্যিক উপস্থিতিকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল—যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও নারীর প্রতি সম্মানের সীমা বারবার লঙ্ঘন করেছে।
এই ধারাবাহিক অপপ্রচারের বিপরীতে খালেদা জিয়ার অবস্থান ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি কখনো পাল্টা কটাক্ষ বা ব্যক্তিগত আক্রমণে জড়াননি। বরং নীরবতা, সংযম ও মার্জিত আচরণের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এই সংযত দৃঢ়তাই তাঁকে একজন রাজনীতিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে।
তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও দীর্ঘদিন তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। অথচ সেই নেত্রীই ১৯৯৪ সালে দেশের সব মেয়ের জন্য মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেন এবং উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে নারী শিক্ষায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেন। আজ বাংলাদেশের নারী শিক্ষার যে অগ্রযাত্রা, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য।
ব্যক্তিগত বিদ্রূপ, ব্যঙ্গচিত্র কিংবা কটূক্তির জবাবে তিনি কখনো একই ভাষায় কথা বলেননি। এমনকি জীবনের শেষ প্রান্তে কারাবাস ও অসুস্থতার মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিত্বে ভাঙন দেখা যায়নি। নীরবতা ও সংযমকেই তিনি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া আজ নেই, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে চালানো অশালীন আক্রমণগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিব্রতকর অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে। আর যে প্রজন্ম তাঁর প্রবর্তিত শিক্ষানীতির সুফল ভোগ করে আজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে—তারাই তাঁর সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তরাধিকার এবং তাঁর প্রতি হওয়া সব অবিচারের নীরব জবাব।



