খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত

বাংলা রিডার ডেস্ক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা টানা তিন দিন ধরে একই রয়েছে। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন—বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তিনি দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল সহ্য করার মতো প্রস্তুত নন। মেডিকেল বোর্ড অনুমোদন দিলেই বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি তেমন সাড়া দিচ্ছিলেন না। তবে তিন দিন পর শনিবার (২৯ নভেম্বর) তিনি সামান্য কয়েকটি কথা বলেছেন। চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা এখনও গুরুতর। ধারাবাহিকভাবে কিডনির ডায়ালাইসিস চলছে—গতকাল রাত ১০টার দিকে করা ডায়ালাইসিসে উন্নতি না এলেও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে।

মেডিকেল বোর্ডের একাধিক সদস্য জানান, আগামী কয়েক দিন তার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কিডনির কার্যক্ষমতা স্থিতিশীল না হলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আশা করা কঠিন। গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে তার অবস্থার পুনরায় অবনতি ঘটে। কয়েক বছর ধরেই তিনি এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, খালেদা জিয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তিনি এখনও কিছুটা নড়াচড়া করতে পারছেন এবং দু-একটি কথা বলেছেন।

এদিকে পরিবার ও বিএনপি নেতৃত্ব তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার বিকেলে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করা এবং ভিসা প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরাও চিকিৎসায় যুক্ত আছেন।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার চীনের একটি চিকিৎসক দল ঢাকায় আসতে পারে। তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You