
বাংলা রিডার ডেস্ক
জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গণঅভ্যুত্থানকালীন হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এটি প্রথম মামলার রায়।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছয় অধ্যায়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের পাঠ শুরু করেন বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। পরে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনাল-১ এর বেঞ্চে ছিলেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
মামলার দুই প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর ধরে কারাবন্দি রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তার শাস্তির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেয় প্রসিকিউশন।
তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ হলো—উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুল হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মোট পরিমাণ ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা—এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, দালিলিক প্রমাণ ও জব্দতালিকা ৪,০৫৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষ্য দিয়েছেন ৮৪ জনের মধ্যে ৫৪ জন। ১২ মে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
সোমবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
রায় ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নেওয়া হয় বহিস্তর নিরাপত্তা। পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। রোববার সন্ধ্যার পর দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়।
গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনকে রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করে।
যুক্তিতর্ক পর্যায়ে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে। রাজসাক্ষী হওয়ায় মামুনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। মামুনের আইনজীবী খালাস দাবি করেছেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের দাবি—হাসিনা ও কামালও খালাস পাওয়ার যোগ্য।



