কার্যক্রম স্থগিত থাকায় নির্বাচন থেকে বাইরে আওয়ামী লীগ

বাংলা রিডার ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন রোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিমান ও নৌ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং ভোটার উপস্থিতি হবে উল্লেখযোগ্য।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের সময় হওয়া তিনটি ‘কারচুপির নির্বাচনে’ ভোট দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া কোটি তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে বাদ পড়েছে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকেও বাদ দিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের জন্য নতুন সূচনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে—যা গত বছরের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া লাখো মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

বৈঠকে চ্যাপম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের চলমান আলোচনাকে প্রশংসা করেন।

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চ্যাপম্যান নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে একমত হয়ে জানান, তার সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে নাগরিকদের উৎসাহিত করছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, শরণার্থী শিবিরে থাকা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে; তাদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।

এ ছাড়া দু’দেশের বাণিজ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, বঙ্গোপসাগরে গবেষণা চালানোর জন্য বাংলাদেশ একটি ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

চ্যাপম্যান বিমান খাতে আরও নিবিড় সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং জানান যে এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You