আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি: গেজেট প্রকাশ

বাংলা রিডার ডেস্ক
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা’ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— আচরণবিধি গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি।

সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।

মূল বিধানসমূহ
গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ, তবে পরিবেশবান্ধব ব্যানার ও বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। যানবাহনসহ মিছিল, শোডাউন বা মশাল মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে—

* গুরুতর অপরাধে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
* অন্যান্য লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১.৫ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
* একই অপরাধে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকেও ১.৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার
প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের জন্য বিশেষ বিধান আনা হয়েছে। প্রার্থী, তার এজেন্ট বা দলকে প্রচার শুরু করার আগে অ্যাকাউন্টের নাম, আইডি ও ই-মেইলসহ সব তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা ঘৃণাত্মক কনটেন্ট তৈরি, মিথ্যা তথ্য প্রচার, প্রতিপক্ষের চরিত্র হনন বা ধর্মীয়-জাতিগত উসকানি দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রচার সামগ্রী প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরিবেশ ও প্রচার সীমাবদ্ধতা
* কোনো প্রার্থী তার এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে (দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট, প্রস্থ ৯ ফুট)।
* পোস্টার পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
* পলিথিন, পিভিসি বা রেকসিনজাত উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না; প্রচার সামগ্রী হতে হবে পরিবেশবান্ধব।
* শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখা বাধ্যতামূলক।
* নির্বাচনের দিন ও প্রচারের সময় ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না।
* বিদ্যুৎচালিত আলোকসজ্জা কেবল ডিজিটাল বিলবোর্ডে সীমিত থাকবে।

সরকারি পদাধিকারীদের নিষেধাজ্ঞা
তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না—এ বিধান এবার প্রথমবার যুক্ত হয়েছে।

নতুন উদ্যোগ
ইসি এবার প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারনামা বাধ্যতামূলক করেছে।
এছাড়া সব প্রার্থীকে নিয়ে এক মঞ্চে ইশতেহার পাঠ ও আলোচনার সুযোগ করে দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, এসব বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You