
বাংলা রিডার ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। তবে আলোচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) আসনে এখনও কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি দলটি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার অনুসারীরা।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে ১৯৭৩ সালের পর থেকে (২০২৩ সালের উপনির্বাচন ব্যতীত) আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী বিজয়ী হননি। স্থানীয় রাজনীতিতে গুঞ্জন চলছে—বিএনপি এবার এ আসনটি জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দিতে পারে। তবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তার সমর্থকরা।
সরাইল উপজেলার সাধারণ জনগণও মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এ আসনে নিয়মিত গণসংযোগ, সামাজিক কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক আলোচনায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এলাকায় উপস্থিত থেকে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন।
ইতিহাস বলছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে প্রায় সব নির্বাচনে বিএনপি বা তাদের জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী আওয়ামী লীগ–জোটের প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এর আগে ২০০১ সালে জোটের প্রার্থী হিসেবেই মুফতি আমিনী নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে এ কারণে সরাইল ও আশপাশের এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি; এখনও অনেক ইউনিয়ন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
সরাইল উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাদের মতে, যদি জোটের শরিক কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে জোটের প্রার্থী জামানত হারাবেন—যেমনটি ঘটেছিল নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
তারা বলেন, “রুমিন ফারহানা ২০১৭ সাল থেকে এলাকার মানুষের পাশে আছেন। ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে যখন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন, তখন রুমিন ফারহানা দলের পক্ষে থেকে আন্দোলন করেছেন এবং হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অবগত আছেন, তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
অনুসারীদের মতে, রুমিন ফারহানা ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এ আসনটি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পিতা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন কুমিল্লা-২ (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের তাহের উদ্দিন ঠাকুর। অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্বাচনে তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে “ঢাকা থেকে বিজয়ী ঘোষণা” করা হয়েছিল।



