বছরের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল সুপারমুন দেখা যাবে আজ রাতে

বাংলা রিডার ডেস্ক
আজ রাতের আকাশে দেখা মিলবে বছরের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ—সুপারমুন। মহাজাগতিক এই সৌন্দর্যের মুহূর্তটি ২০২৫ সালের তিনটি ধারাবাহিক সুপারমুনের দ্বিতীয়টি।

আজকের রাতটি শুধু জ্যোতির্বিদদের জন্য নয়, আকাশপ্রেমীদের জন্যও বিশেষ এক রাত। যুক্তরাজ্যে আজ পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘বনফায়ার নাইট’, ফলে আলোর উৎসবের সঙ্গে আকাশে উজ্জ্বল চাঁদের ঝলক যোগ হবে অতিরিক্ত মোহনীয়তা।

চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সবচেয়ে কাছে আসে, তখনই দেখা দেয় সুপারমুন। এ সময় চাঁদ সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় বড় ও অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখায়। তাই এ সপ্তাহের রাতগুলো হবে আলো আর রঙে ভরা এক স্বপ্নময় সময়।

তবে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগের জন্য আকাশ পরিষ্কার থাকা জরুরি। তাই আবহাওয়ার খবর দেখে নির্ধারণ করাই ভালো, কোথায় থেকে চাঁদ দেখা সবচেয়ে উপভোগ্য হবে।

চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়, বরং কিছুটা ডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার। এ কারণে চাঁদ কখনো পৃথিবীর কাছাকাছি আসে (পেরিজি) আবার কখনো দূরে সরে যায় (অ্যাপোজি)। পেরিজিতে চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মাইল দূরে থাকে, আর অ্যাপোজিতে দূরত্ব বেড়ে হয় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মাইল।

যখন পূর্ণিমার সময় চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে বা পেরিজির প্রায় ৯০ শতাংশের ভেতরে অবস্থান করে, তখন সেটিকেই বলা হয় ‘সুপারমুন’। এ সময় আকাশে চাঁদ সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ উজ্জ্বল দেখা যায়।

‘সুপারমুন’ শব্দটি প্রথম চালু করেন জ্যোতিষী রিচার্ড নোল ১৯৭৯ সালে।

নভেম্বর মাসের এই সুপারমুনকে বলা হয় ‘বিভার মুন’। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে উত্তর আমেরিকার আদিবাসী গোষ্ঠী এবং প্রাচীন ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে এই নামের ব্যবহার রয়েছে। কারণ নভেম্বর মাসেই বিভাররা শীতের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে—বাঁধ তৈরি ও খাদ্য মজুত করতে।

চলতি বছরের শেষ সুপারমুন দেখা যাবে আগামী ৪ ডিসেম্বর।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You