
বাংলা রিডার ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি)–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সুষ্ঠু, সাহসী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনকে মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সম্ভাব্য মব ভায়োলেন্স ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা প্রকাশ করে ইসিকে সতর্ক থাকার তাগিদ দেন।
রবিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএন নাসির উদ্দিন, অন্য চার কমিশনার, ইসি সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সংলাপে নাগরিক সমাজের মূল পরামর্শগুলো:
মব ভায়োলেন্সের আশঙ্কা: যেকোনো সময় সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে, তাই ইসিকে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখতে হবে।
স্বাধীন ও সাহসী ভূমিকা: কমিশনকে রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে, যেন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
প্রবাসীদের ভোট: আইটি-ভিত্তিক পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থাকে স্বাগত জানানো হলেও, এর স্বচ্ছতা ও বিতর্ক এড়াতে সচেতনতা এবং নিয়মনীতি স্পষ্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডিজিটাল বিভ্রান্তি প্রতিরোধ: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট মোকাবিলায় কৌশলগত প্রস্তুতির পরামর্শ।
আনুপাতিক ভোট ব্যবস্থা: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জনসচেতনতা ছাড়া নতুন ভোটিং পদ্ধতি না চালু করার আহ্বান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা: জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ইউএনওদের পরিবর্তে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি।
জাতীয় প্রতীক শাপলা: কোনো দলকে জাতীয় প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইসিকে সাধুবাদ।
না ভোট ও নারী নিরাপত্তা: সব আসনে “না ভোট” চালু এবং নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএন নাসির উদ্দিন বলেন, “এই সংলাপ গণতন্ত্রের পথকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।” তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং একটি বড় পদক্ষেপ এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় কল রেকর্ড ফাঁসের আশঙ্কায় ফোন ধরি না, কিন্তু ইসির দরজা সবার জন্য খোলা। গঠনমূলক পরামর্শ সবসময়ই বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
অতিথিদের বক্তব্য থেকে: সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর: “এই নির্বাচন দেশের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। ইসিকে সৎ ও নির্ভীক থাকতে হবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস: “কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার সময় এখনই। অতীতের ব্যর্থতা ভুলে সামনে এগোতে হবে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইয়াহইয়া আখতার: “বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। গতানুগতিক পন্থায় নির্বাচন করলে বিপদ আরও বাড়বে। সফল নির্বাচন হলে ইসি ইতিহাসে জায়গা পাবে।”
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচন কমিশনের ওপর নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার চাপ বাড়ছে। সুশীল সমাজের এই সংলাপ সেই গুরুত্বকেই নতুন করে তুলে ধরল।



