
মুসাদ্দেক আল আকিব
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নুরুল হক নুর কেবল একজন ছাত্রনেতা বা রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের পথে জনগণের অন্যতম প্রধান স্টেকহোল্ডারে পরিণত হয়েছেন। তার আন্দোলনের ইতিহাস প্রমাণ করেছে, ক্ষমতাসীনদের অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে জনমহলের ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত হচ্ছিল, তা তিনি নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক শক্তিতে রূপ দিয়েছেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার ওপর বর্বরচিত হামলা একটি ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত। এটি শুধু নুরুল হক নুর বা তার সংগঠনের ওপর হামলা নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের চেষ্টার ওপর সরাসরি আঘাত। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে এক গভীর রাজনৈতিক বার্তা। ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো প্রশাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে সক্রিয়। তারা সুযোগ বুঝে বিপ্লবী শক্তির ওপর হামলে পড়ছে, যাতে পুরনো স্বার্থ ও ক্ষমতার চক্র নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে।
ফ্যাসিবাদের নতুন ছদ্মবেশ:
বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, যখন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায় ও দমননীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী গণআকাঙ্ক্ষাকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে নামে। আজও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এ ধরনের নব্য ফ্যাসিবাদী শক্তি একেকটি কাল সাপের মতো অন্তরালে লুকিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই তারা বিষ ছড়াবে, গণমানুষের রক্ত শুষে নেবে, আবার অশান্তির আগুন জ্বালাবে।
বিপ্লবীদের জন্য বার্তা:
ওহে জাতির বিপ্লবী সন্তানরা, আজ আবারও নির্ঘুম রাত কাটানোর সময় এসেছে। বিপ্লবের ইতিহাস কখনো সহজ নয়। প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে ষড়যন্ত্র, ভয়ঙ্কর হামলা আর রক্তঝরা স্মৃতি। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী। কোনো ফ্যাসিবাদই জনগণের অদম্য শক্তিকে শেষ পর্যন্ত রুখতে পারেনি।
এখন প্রয়োজন সর্বত্র প্রখর দৃষ্টি রাখা। আন্দোলন শুধু মিছিলে নয়, চিন্তায়, নীতিতে, রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের স্পষ্ট রূপরেখায়। নব্য ফ্যাসিবাদী সর্পের বিষদাঁত ভাঙতে হলে সংগঠিত ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতি ছাড়া কোনো পথ নেই।
সুদূরপ্রসারী পরিণতি:
নুরুল হক নুরের ওপর এই হামলা নতুন বাংলাদেশ সংস্কার আন্দোলনের জন্য দুঃখজনক অধ্যায় । কিন্তু ঐতিহাসিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। যদি বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকে, তবে এই আঘাত আন্দোলনকে আরও দৃঢ় করবে, গণমানুষের অংশগ্রহণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু যদি শত্রুদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে সংস্কার আন্দোলন ভেঙে যায়, তবে গণআকাঙ্ক্ষার অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
সুতরাং এখন সময় সতর্ক হওয়ার, ফের এখনই ঐক্যবদ্ধ থাকার। আর রাষ্ট্র সংস্কারের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার। কারণ ইতিহাসের নিয়ম অমোঘ: যেখানে জনগণের শক্তি জেগে ওঠে, সেখানে ফ্যাসিবাদের দাঁত ভেঙে চুরমার হয়।
লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী
তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৫ খ্রী.



