অনিয়মের অভিযোগে চাঁদপুরে দি ইউনাইটেড হাসপাতালে বন্ধের নির্দেশ

বাংলা রিডার ডেস্ক 

চাঁদপুর শহরের দি ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি সিলগালা করার সুপারিশ করেছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলমান অভিযানে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করে সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দু’দিনের মধ্যে চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।

অভিযান পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল হাসান ফয়সল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুঃ মিজানুর রহমান এবং চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই হাসপাতালটি খালি করা হবে এবং আইনগত বিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য গত ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে একটি জীবিত নবজাতক শিশুকে মৃত বলে দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে আসে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ফারুক গাজী। পরে গোর খোদকরা সেই শিশুটিকে জীবিত দেখতে পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানালে তারা শিশুটিকে চাঁদপুর ফেমাস হসপিটালে ভর্তি করায়। দীর্ঘ আট ঘন্টা চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় শিশুটি ঐদিন রাত সাড়ে নয়টায় মৃত্যুবরণ করে।

এ ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নবজাতক শিশুটিকে বহনকারী ফারুক গাজীকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করেন এবং মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) একটি মামলা দায়ের করেন।

তারই সূত্র ধরে ভ্রাম্যমান আদালত নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে দি ইউনাইটেড হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য: হসপিটালটিতে ২০১৭ সাল থেকে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড এবং নবজাতক শিশু কেনা বেচার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে এ যাবত স্থানীয় ও জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নানা অনিয়ম এবং সংবাদ প্রতিবেদন সত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাবশালী মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপে প্রতিষ্ঠানটি সকল আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের এ সকল অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা সেতু দীর্ঘদিন যাবত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নবজাতক শিশু কেনাবেচা করে আসছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ফারুক গাজী ব্যতীত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর নবজাতক শিশু কান্ডে এখন পর্যন্ত আর কোন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারিনি পুলিশ। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বাহার মিয়া

বিজ্ঞাপন

Recommended For You