
বাংলা রিডার ডেস্ক
ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সাগর থেকে নদীতে আসা ইলিশের নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রথম দিনেই মেঘনা নদীতে মাছ ধরার তৎপরতা দেখা যায়নি। একই সঙ্গে চাঁদপুরের দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রও ছিল ফাঁকা। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন, টিলাবাড়ী ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুরো নদী ফাঁকা। কোথাও কোনো জেলে নৌকা দেখা যায়নি।
ট্রলার নিয়ে নদীতে মাইকিং করে জেলেদের সচেতন করতে দেখা গেছে জেলা মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীদের।
অন্যদিকে দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বড় স্টেশন মাছঘাটও ফাঁকা।
নিষেধাজ্ঞার আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) যেখানে ছিল কর্মচাঞ্চল্য, সেখানে এখন ভিন্ন চিত্র। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলত পাইকারি ও খুচরা ইলিশ কেনাবেচা।
এখন অধিকাংশ আড়তের সামনে ফাঁকা। কিছু আড়তের সামনে লোকজন থাকলেও তারা হিসাব-নিকাশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।
জেলা টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে ২২ দিনের জন্য শহরের সব বরফকল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশীয় জলাশয়ে চাষ করা মাছ বিক্রিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
ঘাটের ইলিশ বিক্রেতা আকবর আলী বেপারী বলেন, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আড়তে আসেন তিনি। আজও ওই সময় এসে উপস্থিত হয়েছেন। তেমন কোনো কাজ নেই। অনেকেই আড়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন।
এই ঘাটে ইলিশ কেনাবেচা কাজে শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তাদের আড়ত ও বিভিন্ন স্থানে অবসর সময় কাটাতে দেখা গেছে।
শ্রমিক সোলায়মান ও আনিছুর রহমান বলেন, কাজ না থাকলেও বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগে না। এ কারণে আড়তের পাশে বসে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছেন তারা। ২২ দিন তাদের অবসরে থাকতে হবে। এই সময়ে সবাই বেকার হয়ে পড়েছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, অভয়াশ্রম এলাকার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত জেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ তিনটি দল অভিযান পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন ২৪ ঘণ্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত। এ সময় পদ্মা-মেঘনায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, কেনা-বেচা, মজুদ ও পরিবহন নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।



