খাদের কিনারা থেকে পাকিস্তানের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

বাংলা রিডার ডেস্ক
ফিফা আসিয়ান কাপ ডিভিশন-১-এর ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচের শুরুতে প্রতিপক্ষের চাপে পড়ে পিছিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে তারা।

ফুটবলে র‌্যাংকিং যে সবসময় মাঠের ফল নির্ধারণ করে না, পাকিস্তানের এই লড়াইয়ে তারই প্রমাণ মিলেছে। দুই গোলের ঘাটতি কাটিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরানোর পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্যও লড়াই করেছে দলটি।

১৩৫ নম্বর স্থানে থাকা ফিলিপাইনকে রুখে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় এক ড্র উপহার দিয়েছে ১৯৮তম স্থানে থাকা দলটি।
সি জালাক হারুপাত স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।

প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এটি পাকিস্তানের জন্য ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে ভিয়েতনামের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে আসা ফিলিপাইনও চেয়েছিল জয়ের ধারায় ফিরতে।
২০১৩ সালের ‘পিস কাপে’ এই ফিলিপাইনের কাছেই ৩-১ গোলে হেরেছিল পাকিস্তান। তবে কোচ নোলবার্তো সোলানোর শিষ্যরা এবার এক দারুণ লড়াকু মানসিকতার গল্প লিখল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল ফিলিপাইনের একক আধিপত্যের। মুহুর্মুহু ধারালো ক্রসে পাকিস্তানি রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইউসুফ বাট এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তার পরও ২৪ মিনিটে খেই হারায় পাকিস্তান। গোললাইনে মুহিবুল্লাহ আফ্রিদির ক্লিয়ারেন্স বারে লেগে ফিরে এলে, দ্রুত ফিরতি বলে জাল কাঁপান ফিলিপাইনের স্যানড্রো রেয়েস। এরপর ৩২ মিনিটে ডি-বক্সে মোহাম্মদ ফাজালের হ্যান্ডবলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ২-০ করেন বিজর্ন ক্রিস্টেনসেন।

জোড়া গোল হজম করে ব্যাকফুটে থাকা পাকিস্তান দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে চেনা ছকের বাইরে, সম্পূর্ণ আগ্রাসী রূপে। বিরতির পরপরই আলমগীর ও উমর নওয়াজকে তুলে আলী আগা ও হাইয়ান খাট্টাককে নামিয়ে পরিবর্তনের জুয়া খেলেন কোচ সোলানো। আর তাতেই বাজিমাত! ৪৭ মিনিটে অধিনায়ক আব্দুল্লাহ ইকবালের নিখুঁত পাসে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ফিলিপাইন কিপার মেন্দোজাকে বোকা বানান আলী আকবর। আদায় করে নেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।

এই গোলের পরই পাকিস্তানের আক্রমণের ধার বেড়ে যায় বহুগুণ। কাঙ্ক্ষিত সমতাও আসে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে। ডান প্রান্ত থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির বাঁ পায়ের জোরালো শটে স্কোরলাইন ২-২ করেন আব্দুল সামাদ আরশাদ। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার দ্বিতীয় গোল।

শেষের দিকে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে দুই দলই মরিয়া হয়ে ওঠে। ফাজাল ও আলী উজায়েরের জায়গায় অভিষেক করানো হয় আব্দুল রেহমান ও আব্দুল সামাদ খানকে। পাল্টা আক্রমণে ফিলিপাইন বেশ ভয় ধরিয়ে দিলেও মুহিবুল্লাহর অসাধারণ এক ব্লক নিশ্চিত পতন ঠেকায়। গ্যালারির করতালির মাঝে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল। প্রথমবারের মতো কোনো ফিফা ইভেন্টে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের দেখা পেল পাকিস্তান।

এই রোমাঞ্চকর ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘বি’-তে দুই দলেরই শিরোপার আশা এখন সুতোয় ঝুলছে। ১ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পাকিস্তান আছে টেবিলের তলানিতে। আগামী শুক্রবার নিজেদের শেষ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা শক্তিশালী ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে সোলানোর দল।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You