
বাংলা রিডার ডেস্ক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য। পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করে ঘটনার বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
এ সময় অপ্রতিমের কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি স্বরাষ্ট্রসচিবকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
ফোনে কথা বলার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ভিটিওতে শোনা যায় এমপি মনিরুল হক নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম। ভাই, সরি যে আমি কান্নার মধ্যে… শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে। আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কি না। এই ব্যাপারে একটু ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
জবাবে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, জ্বি স্যার শুনেছি। আমরা সেটা নিয়েই ব্যবস্থার চিন্তা করছি, কী করব। আমি রিপোর্টটা পেয়েছি এবং দেখছি। পরে মনিরুল হক বলেন, ‘একেবারে অসহনীয় সিচুয়েশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর অ্যাটেনশন।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি সে। পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের ধারণা আইফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হতে পারে।



