
বাংলা রিডার ডেস্ক
নতুন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাঁদপুর জেলার চার কৃতি সন্তান দায়িত্ব পেয়েছেন। শিক্ষা, গবেষণা, গণমাধ্যম ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁদের নিয়োগে জেলায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
১. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ কচুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাষক এবং ওষুধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভূমিকা।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় জয়লাভ করেন।
২. মাহাদী আমিন
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিমণ্ডলে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন ড. মাহাদী আমিন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ছিলেন।
তিনি যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর প্রসেস এক্সেলেন্স অ্যান্ড ইনোভেশনে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম, ক্যামব্রিজ’-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আইবিএম, ব্রিটিশ টেলিকম, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে গবেষণায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী মাহাদী আমিন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁর পেশাগত সাফল্য নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছে। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
৩. আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ড. আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, যিনি সালেহ শিবলী নামে অধিক পরিচিত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সন্তান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি মিডিয়া ও প্রশাসন বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পূর্বে তিনি কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক তাঁর একাধিক প্রবন্ধ জাপানের কিতাকিউশু ফোরাম অন এশিয়ান উইমেন প্রকাশিত ‘এশিয়ান ব্রিজ’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিডনি পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের নন-রেসিডেন্ট ফেলো হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।
৪. মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী
প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী। তিনি মতলবের কৃতিসন্তান এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত)। অতীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে চাঁদপুরের চার কৃতিসন্তানের অন্তর্ভুক্তি জেলাবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


