
বাংলা রিডার ডেস্ক
ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। দুই সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতায় হতাহতের বিষয়ে এই প্রথম কোনো ইরানি কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে সংখ্যা প্রকাশ করলেন। খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর পেছনে সন্ত্রাসীদের ভূমিকা রয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানি সরকার বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে বৈধ বলে উল্লেখ করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ইরান সরকার দেশজুড়ে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে এবং বলছে, অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। এদিকে একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, শত শত নিহত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিক্ষোভের ঘটনায় হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ও গোয়েন্দা পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির অংশীদার সিবিএস নিউজের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারণা চালানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী হলেও দেশটি যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে বৈঠক করবে। তবে ওই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট নিজে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।


