
বাংলা রিডার ডেস্ক
পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মহানগরীর ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে মামদানি তার দাদার কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ নেন। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের নিচে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় ৮০ লাখ মানুষের শহর নিউইয়র্কে মামদানিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ তাকে ঘিরে আশাবাদী, আবার কেউ শঙ্কার দৃষ্টিতে দেখছেন। অনেকের মতে, এই ক্যারিশম্যাটিক নেতা নিউইয়র্কের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারেন।
৩৪ বছর বয়সী সাবেক এই আইনপ্রণেতা নির্বাচনী প্রচারে বাসাভাড়া কমানো, বিনামূল্যে গণপরিবহন এবং শিশু পরিচর্যার সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অঙ্গীকারকে কেন্দ্র করেই তার প্রচারণা পরিচালিত হয়, যা ডেমোক্র্যাট পার্টির জন্যও একটি সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনে মামদানি রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের সমর্থন পান। তাকে ভোট দেন ২০ লাখের বেশি মানুষ। মোট ভোটের ৫০ শতাংশ অর্জন করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমোর চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট এগিয়ে থাকেন এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ারকেও বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।
উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। হোয়াইট হাউজে সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন, বহু বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার মতবিরোধ রয়েছে।
তবে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের বিষয়টি তার রাজনৈতিক মিত্রতার দিকটিই বেশি তুলে ধরে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৪ সালে সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওও তার প্রথম মেয়াদের শুরুতে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে শপথ নিয়েছিলেন।


