চাঁদপুরে দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ:  দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চান বাসিন্দারা

বাংলা রিডার ডেস্ক

চাঁদপুর পৌরসভার বাসিন্দারা বহুদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন। অভিযোগ রয়েছে—পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা, ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে। সরকারি কর্মকর্তা থেকে সাধারণ নাগরিক—সবাই বাধ্য হয়েই এই দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

অনেকে বলছেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও সেবার মান তৃতীয় শ্রেণির মতো। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ মো. জাহাঙ্গীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও সেবা এখনো তৃতীয় শ্রেণির।”

সরেজমিন দেখা গেছে, নতুন বাজার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ডাকাতিয়া নদী থেকে পাম্পে পানি তুলে শোধনাগারে সরবরাহ করা হলেও পাশের নালা থেকে দূষিত পানি ওই লাইনে প্রবেশ করছে। ফলে শোধনাগারে আসার আগেই পানি দূষিত হয়ে পড়ছে।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা শেখ ফরিদ আহমেদের অভিযোগ, নদী থেকে পানি তুলে যথাযথ বিশুদ্ধকরণ ছাড়াই সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানির লাইন ও ড্রেনেজ লাইন লিকেজ হয়ে মিশে যাচ্ছে, ফলে অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পৌরসভায় বারবার অভিযোগ করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।

তবে পানি শোধনাগারের দায়িত্বে থাকা অপারেটর মিন্টু ব্যাপারী দাবি করেন, বর্ষায় নদীর পানি ঘোলা হলেও ফিটকিরি ও ব্লিচিং ব্যবহার করে শোধনাগারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। তার মতে, যাদের ব্যক্তিগত রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার নয়, সেখানে ময়লা জমে পানি খারাপ হতে পারে।

তালতলা এলাকার গৃহিণী নাসিমা আক্তার জানান, বহুদিন ধরে একই সমস্যা চলছে। “আমরা প্রায়ই ফিটকিরি দিয়ে পানি পরিষ্কার করে খাই,” বলেন তিনি।

পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৬ সালের ১ অক্টোবর। বর্তমানে পৌর এলাকায় বসবাস করেন প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার মানুষ, পানি ব্যবহারকারী গ্রাহক প্রায় ১৪ হাজার। পৌর প্রশাসক মো. গোলাম জাকারিয়া জানান, পৌরসভার চারটি পানি শোধনাগারের মধ্যে বিপণীবাগের ভূগর্ভস্থ প্ল্যান্টটি অচল রয়েছে। অন্য তিনটি শোধনাগার সচল। নতুন বাজার শোধনাগারের পানিতে নালার ময়লা মেশার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আশ্রয়–প্রশ্রয়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে আজ পৌরবাসী নোংরা পানি পান করছেন, তবুও পানির বিল বাড়ানো হয়েছে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ কে এম মাহবুবুর রহমান জানান, প্রতিদিন অনেক রোগী পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You