
বাংলা রিডার ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে একসময় নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীরা নিজেদের নিরাপদ মনে করলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি সেই নিরাপত্তাবোধে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গণবহিষ্কার অভিযান, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ—এসব কারণে অনেক অভিবাসী–নাগরিকই এখন অনিরাপদ অনুভব করছেন।
সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা দাউদা সেসাই প্রায় এক দশক শরণার্থী শিবিরে ছিলেন। নিয়ম মেনে নাগরিকত্ব অর্জন করেন তিনি। সেসাই বলেন, “শপথ নেওয়ার সময় ভেবেছিলাম সত্যিই এই দেশের অংশ হয়ে গেছি—কিন্তু এখন মনে হচ্ছে পরিস্থিতি বদলে গেছে।”
ভ্রমণে শঙ্কা ও সীমান্তে জিজ্ঞাসাবাদ
অনেক অভিবাসী–নাগরিক এখন বিদেশ ভ্রমণ করতে দ্বিধা বোধ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক হওয়ার মতো ঘটনাগুলো তাদের আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। এমনকি দেশের ভেতরেও ভুলভাবে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে আটক হওয়ার খবর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অপরাধে জড়িত থাকলে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অপরাধে জড়িত বা নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে। গত গ্রীষ্মে নিউইয়র্কের মেয়র–নির্বাচিত জোহরান মামদানিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইতিহাসে নাগরিকত্বের ধারণা বহুবার পাল্টেছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের সংজ্ঞা ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে—
প্রথমদিকে এটি সীমাবদ্ধ ছিল ‘সচ্চরিত্র শ্বেতাঙ্গদের’ মধ্যে।
পরবর্তীতে আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১৯২৪ সালের আইন এশীয়দের নাগরিকত্ব লাভ প্রায় বন্ধ করে দেয়, যা ১৯৫২ সালে সংশোধিত হয়।
১৯২৩ সালে ভগত সিং থিন্দসহ বহুজনের নাগরিকত্ব সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।
দাউদা সেসাই বলেন, “আমি যে দেশের প্রতি অঙ্গীকার করেছিলাম, আজ সেই দেশকে যেন আর চিনতে পারছি না। মনে হচ্ছে প্রতিশ্রুত সুরক্ষা আর আগের মতো নেই।”


