
বাংলা রিডার ডেস্ক
ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিনকে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন দিন বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “জুমার দিন হলো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনই আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছেন, দুনিয়ায় এসেছেন এবং এ দিনেই তার তাওবা কবুল হয়। কেয়ামতও এই দিনেই ঘটবে।” (আবু দাউদ: ১০৪৬)
এই দিনটি মুসলমানদের জন্য যেন এক সাপ্তাহিক ঈদের মতো। তাই জুমার দিনটি বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল দিয়ে সাজানো উচিত। নিচে তুলে ধরা হলো শুক্রবারের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল:
১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও গোসল
জুমার নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত। নখ ও অপ্রয়োজনীয় লোম কাটা, দাঁত পরিষ্কার করা (মিসওয়াক), ভালো কাপড় পরা ও সুগন্ধি ব্যবহার করার ব্যাপারে হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া
জুমার দিন যত তাড়াতাড়ি মসজিদে যাবেন, তত বেশি সওয়াব পাবেন। রাসুল (সা.) বলেন, আগে আসলে বেশি সওয়াব—যেমন কেউ উট, গরু, ভেড়া, মুরগি কিংবা ডিম সদকা করল। (বুখারি: ৯২৯)
৩. আজানের পর সব কাজ থামিয়ে দিন
আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর।” (সুরা জুমা: ৯)
৪. মসজিদের আদব বজায় রাখা
খুতবা চলাকালে কথা বলা, অন্যকে বিরক্ত করা বা কাতার ডিঙিয়ে সামনের দিকে যাওয়া নিষেধ। হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) একবার এমন কাউকে দেখে বলেছিলেন, “বসে যাও, তুমি দেরি করেছ, আর অন্যদের কষ্ট দিচ্ছ।” (আবু দাউদ: ১১১৮)
৫. নফল ও সুন্নত নামাজ আদায়
জুমার আগে ও পরে ৪ রাকাত করে সুন্নত নামাজ পড়া উত্তম। ইমাম আসার আগেই মসজিদে গিয়ে ২ রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ পড়া হাদিসে এসেছে।
৬. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
খুতবা শোনা ওয়াজিব। খুতবার সময় এমনকি অন্যকে “চুপ করো” বলাও নিষেধ। রাসুল (সা.) বলেন, এতে তোমার নিজেরই কথা বলা হয়ে যায়। (বুখারি: ৯৩৪)
৭. জুমার নামাজ খুশু-খুজু সহকারে আদায়
এই দিনের মূল ইবাদত হলো জুমার নামাজ। একাগ্রতা ও আদব বজায় রেখে নামাজ পড়ুন।
৮. বেশি বেশি দরুদ পাঠ
রাসুল (সা.) বলেন, “তোমরা জুমার দিনে আমার উপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।” (আবু দাউদ: ১৫৩৩)
৯. দোয়া করুন – বিশেষ মুহূর্তে কবুল হয়
জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন দোয়া করলে তা কবুল হয়। এ সময়টি নিয়ে দুইটি মত আছে:
ইমাম খুতবা শুরু করলে থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।
অথবা, আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
বিশেষ এই মুহূর্তটি নিশ্চিত না হওয়ায় সারা দিন দোয়া করাই উত্তম।
১০. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত
রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তা পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার জন্য আলো হয়ে থাকবে।” (সহিহুল জামে: ৬৪৭০)
জুমার দিন হলো আত্মশুদ্ধির, ইবাদতের এবং বরকতের দিন। চলুন এই দিনটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করি, আমলগুলো অভ্যাসে পরিণত করি।



