
বাংলা রিডার ডেস্ক
নিরবচ্ছিন্ন দুই দিনের তীব্র বিক্ষোভ ও জনরোষের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) তার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর বিবিসি।
এক বিবৃতিতে কেপি ওলি বলেন, “চলমান সংকটের সংবিধানসম্মত সমাধানকে সহজতর করতে আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সম্প্রতি জেনারেশন জি (Gen Z) তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের মূল ইস্যু ছিল সরকারি দুর্নীতি এবং এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারি। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার তরুণ। বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে প্রাণহানিও ঘটে।
সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন রেগমি জানান, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে কমপক্ষে ২ জন নিহত, ৯০ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন।
বিক্ষোভকারীদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় একাধিক রাজনৈতিক নেতার বাসভবন। হামলার শিকার হন প্রধানমন্ত্রী ওলি নিজে, হামলা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাড়িতেও।
এই অবস্থায়, সংকট সমাধানে ওলি সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান করেছিলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন“রাজধানীসহ সারা দেশে যা ঘটছে, তা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। কোনো সহিংসতা দেশের জন্য ভালো নয়। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান সম্ভব।” তবে বৈঠকের আগেই পদত্যাগ করে দেন তিনি।
নেপালের রাজনীতিতে আবারও বড় পালাবদল। বিক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের চাপ, সহিংস পরিস্থিতি ও সামাজিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। দেশ এখন অপেক্ষা করছে নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীলতার পথে ফিরবে কি না।


