
বাংলা রিডার ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরও চারজন নতুন সদস্য যুক্ত হতে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে তিনজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এবং সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরির নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদিকে, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন। এর পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
পার্থকে বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পার্থকে আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য ফোন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব আব্দুল মতিন সউদ।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার জন্য কল করা হয়েছে।’
পার্থকে নৌপরিবহন অথবা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানান সউদ। তবে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
পার্থ ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তার দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানকেও নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটির ভাষ্য, মঈন খান অফিসিয়াল ফোন কলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন।
পাহাড়ি জেলার প্রতিনিধিত্বে সাচিং প্রু জেরি
নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথের তালিকায় রয়েছেন বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।
সাচিং প্রু জেরি নিজেই জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকার জন্য তাকে ফোন করা হয়েছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে সরকারে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নতুন মাত্রা পেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় শামীম কায়সার
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের নাম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তাকে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে তার সম্ভাব্য মন্ত্রণালয় বা দপ্তর এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ ঘিরে সরকারি পর্যায়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে ছয়টি গাড়ি চাওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছয়টি গাড়ি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
তবে এসব গাড়ির কতটি নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেই বিস্তারিত জানা যাবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
৫০ থেকে মন্ত্রিসভার সদস্য ৫৪
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তারা মন্ত্রিসভার সদস্য নন।
আজ তিনজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৪ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রীর সংখ্যা হবে ২৮ এবং প্রতিমন্ত্রী ২৫ জন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথের দিনেই মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণকে সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা, জোটসঙ্গী দলের চেয়ারম্যান এবং পার্বত্য এলাকার প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।



