চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক

বাংলা রিডার ডেস্ক
সাদাকালো থেকে রঙিন পর্দা—দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন তিনি। নায়ক থেকে হয়ে উঠেছিলেন ‘নায়করাজ’।

তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। বাংলা সিনেমার এই অবিসংবাদিত নায়কের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০১৭ সালের ২১ আগস্ট ৭৫ বছর বয়সে সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা।
ঢাকাই সিনেমায় কখনো নীল আকাশের নিচে হেঁটেছেন রোমান্টিক নায়ক হয়ে, কখনো হাজির হয়েছেন পিতার বেশে আবার কখনো হয়েছেন সংগ্রামী যোদ্ধা।

জীবনভর রুপালি পর্দায় নানা চরিত্রে ভেসে ভেসে ‘অনন্ত প্রেম’ সিনেমার এই নায়কও অনন্তের পথে চলে গেলেও, কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসার দ্বীপ নেভে নাই।

তবে নায়করাজের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেই কোনো বিশেষ আয়োজন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিরও কোনো উদ্যোগ নেই। এ বিষয়ে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এর আগেও সমিতির সদস্য, যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তাদের নিয়ে এককভাবে মিলাদের আয়োজন করেছি। কিন্তু দেখা গেছে, আয়োজনে দাওয়াত দেওয়া সত্ত্বেও অনেকেই আসতে চান না। তাই গত বছর থেকে বিশেষভাবে একটি দিন ধার্য করে প্রয়াত শিল্পীদের পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি। এবারও সেটাই করার ইচ্ছা আছে। এককভাবে করার পরিকল্পনা নেই।
চলচ্চিত্রাঙ্গনে আয়োজন না থাকলেও নায়করাজের পরিবার কর্তৃক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্জাকের ছোট ছেলে অভিনেতা খালিদ হোসেন সম্রাট। তিনি বলেন, আব্বা ছাড়া দেখতে দেখতে নয়টি বছর চলে গেল। যেহেতু নায়করাজ আমার বাবা, স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিকভাবে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কিন্তু এর বাইরে চলচ্চিত্র পরিবার বা ইন্ডাস্ট্রি আব্বাকে মনে করল কি করল না, তা নিয়ে আগে মন খারাপ হতো, এখন আর এসব নিয়ে ভাবি না। আমরা শুধু তার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন নায়করাজ রাজ্জাক। তার পারিবারিক নাম আবদুর রাজ্জাক। ১৯৬৪ সালে কলকাতা থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে আসেন তিনি।

রাজ্জাকের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। নায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ হয় জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে সুচন্দার বিপরীতে। তারপর থেকে একাধারে অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গন দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি।

‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ছুটির ঘণ্টা’সহ মোট ৩০০টির বেশি বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সঙ্গে ঢালিউডে সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেন তিনি।

রাজ্জাক পরিচালনা করেছেন ১৬টি চলচ্চিত্র। গড়ে তোলেন রাজলক্ষী প্রোডাকশন হাউজ। প্রযোজক হিসেবে তার যাত্রা হয় ‘রংবাজ’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর বেশ কিছু সিনেমা প্রযোজনাও করেছেন এই কিংবদন্তি।

রাজ্জাক ১৯৬২ সালে খায়রুন নেসার (লক্ষ্মী) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেন রেজাউল করিম (বাপ্পারাজ), খালিদ হোসেইন (সম্রাট), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসেন বাপ্পি, আফরিন আলম ময়না।

দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে নায়করাজ ২০১৫ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পুরস্কারে ভূষিত হন। শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন মোট পাঁচবার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পান ২০১৩ সালে। এছাড়াও বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You