
বাংলা রিডার ডেস্ক
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বড় জা রিগান আক্তার মীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে গলা টিপে হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ডাকাতির নাটক সাজানোর কথাও তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চাঁদপুরের বিচারিক আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুমাইয়া আক্তার মিনা হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির ঘটনা সাজানো হয়েছিল, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ভিন্নদিকে মোড় নেয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।
গেল ১৫ জুলাই রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড বাতলা বেপারী বাড়িতে সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল হকের বসতঘরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনাকে ডাকাতির এবং নিজেকে আহত বলে দাবি করা বড় জা সুমাইয়া আক্তার মিনাকে ঘটনার পর দিনই শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ আটক করে। পরে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার তাকে জবানবন্দির জন্য চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পারিবারিক কলহ ও প্রতিহিংসার জেরে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
থানা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিগান আক্তার মীম ২০২০ সালে শাহরাস্তির সাইফুল ইসলাম রনির সাথে বিয়ে হয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তাদের সংসারে সাইকা (৩) ও সিরাত (৩ মাস) নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। ঘটনার দিন ১৫ জুলাই সকালে রিগানের জা নাজমিন বেগম (৫৫) ও ছোট দেবর রিমন (২৫) চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। সুযোগ বুঝে সুমাইয়া রিগানকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ডাকাতির ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করে।
পাশের বাড়ির চাচা মিজান (৬৫) চিৎকারের শব্দ পেয়ে রিগানের বাবা মো. কবির হোসেনকে খবর দেন। এসে তারা মেয়ের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে ১৬ জুলাই শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৫, ধারা-৩০২ পেনাল কোড।
শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আসামি সুমাইয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। প্রতিহিংসার কারণেই সে জা-কে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে।এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



