
বাংলা রিডার ডেস্ক
সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর’ এবং ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, তাঁদের অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে সকালে ট্রাইব্যুনাল-২-এ পৃথক দুটি মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। মাসুদের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা এবং খালেদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে তাঁদের হাজির করার নির্দেশ দেন।
ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা অতীতে গণতন্ত্র ও সুশাসন বিনষ্টসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, খুন, গুমসহ নানা গুরুতর অপরাধে তাঁদের সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে সব অভিযোগ প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁদের বিচার হওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, এ ধরনের অপরাধের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সাহস পাবে না।
এর আগে, গত সোমবার রাতে ঢাকার বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন পল্টন থানার মানব পাচার সংক্রান্ত মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই মামলার পাশাপাশি এক-এগারোর সময়কার ভূমিকাও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় রয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ মামুন খালেদকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন। বর্তমানে ডিবি হেফাজতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


