দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে স্বজনদের কান্না, ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাহত উদ্ধার অভিযান

বাংলা রিডার ডেস্ক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নদীতীরে স্বজনদের আহাজারি বাড়ছে। নিখোঁজদের খোঁজে উৎকণ্ঠিত পরিবার-পরিজনের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুরের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রাত ৮টার পর শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অন্তত ৪৫ জন যাত্রী বাসটিতে ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বেশিরভাগই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ করেই বাসটি পদ্মায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে।

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়। তবে জাহাজটি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করছে।

ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী আইন উদ্দিন জানান, কুমারখালী থেকে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সাভারে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সবাই বেঁচে গেলেও তার মেয়ে এখনো বাসের ভেতরে আটকে আছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

এদিকে, স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন অনেকে। গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আওয়াল আনোয়ার জানান, তার ছোট বোনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে, তবে ভাগনে ও নাতি এখনো নিখোঁজ।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, রুপচাঁদ, মর্জিনা ও রেহেনা নামে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে মর্জিনা ও রেহেনা নামে দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, এখন পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

এ ঘটনায় তথ্য জানতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম (০১৭৩৩৩৩৬৪০৯) চালু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You