বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ৫০ লাখ রুপি জরিমানা

বাংলা রিডার ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের প্রত্যেককে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ২২ লাখ টাকা) করে জরিমানা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে বোর্ড কর্মকর্তারা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আইসিসি টুর্নামেন্টে আবারও শেষ চারে উঠতে না পারার জেরে এই বড় অঙ্কের জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল–এর কাছে হারের পর থেকেই পাকিস্তানের পথ কঠিন হয়ে যায়। পরে সুপার এইটে ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল–এর বিপক্ষে পরাজয় সেমিফাইনালের আশা প্রায় শেষ করে দেয়। যদিও শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল–এর বিপক্ষে দলটি সঙ্কীর্ণ জয় পেয়েছিল, তবে তা শেষ চারে ওঠার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে জয় এলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে হতাশার ছায়া নেমে এসেছে।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটিং কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ দলের ব্যর্থতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুই বছরে একবার দেশের ক্রিকেটের উৎকর্ষ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ আসে, আর আমরা আবারও ব্যর্থ হলাম। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক।’

মিয়াঁদাদের মতে, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন অনেক বেশি পরিকল্পিত ও কৌশলনির্ভর, কিন্তু পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না। বিশেষ করে উচ্চ র‌্যাংকিংধারী দলের বিপক্ষে ধারাবাহিক ব্যর্থতা উদ্বেগজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এখনই পিসিবিকে কিছু মৌলিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, কিছু ক্রিকেটারকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজেদের প্রমাণের জন্য অনেক বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা বড় মঞ্চে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘এখন সময় এসেছে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।’

আরেক সাবেক অধিনায়ক মইন খান বলেছেন, শীর্ষ দলগুলোকে হারানোর সামর্থ্য না থাকলে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট জেতা সম্ভব নয়। তার মতে, দল নির্বাচন ও মাঠের পারফরম্যান্স—দুই জায়গাতেই পাকিস্তান বড় ভুল করেছে এবং বিশ্বকাপে মূল খেলোয়াড়রা জ্বলে উঠতে পারেননি।

এদিকে দলের সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম, বর্তমান অধিনায়ক সালমান আলি আগা এবং সিনিয়র ক্রিকেটার শাদাব খান, শাহিন শাহ আফ্রিদিমোহাম্মদ নওয়াজ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। শোনা যাচ্ছে, দেশে ফেরার পর অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন আগা।

সাবেক কোচ সাকলায়েন মোস্তাক–ও সমালোচনার বাইরে নন। শাদাব খানের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দায় চাপান প্রধান কোচ মাইক হেসন–এর ওপর, যা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You