
বাংলা রিডার ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণের সব চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ২৯৯টি আসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যালট পেপার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন কেবল নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত মিডিয়া সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কাভার করতে আসা বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য এই মিডিয়া সেন্টারের উদ্বোধন করেন ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তস্নাত বিপ্লবের অন্যতম বড় ম্যান্ডেট ছিল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। সে লক্ষ্যেই অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কাজ করেছে।
তিনি জানান, ভোটার তালিকায় থাকা অসংখ্য ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন তরুণ ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আখতার আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে—একটি সাধারণ নির্বাচন এবং অন্যটি গণভোট। সাধারণ নির্বাচন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য এবং গণভোট সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য। তবে এই পথচলা সহজ ছিল না; ধাপে ধাপে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্য তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। অপতথ্য পরিহার করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব থাকলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে, কারণ মোবাইল ফোন এখন সাংবাদিকদের কাজের অপরিহার্য অংশ। নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে সবাইকে অপতথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইসি সিনিয়র সচিব আরও বলেন, বর্তমানে নির্বাচন ফলাফল ব্যবস্থাপনা (ইলেকশন রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট) নিয়ে কাজ চলছে। ভোটের ফল দ্রুত প্রকাশের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের কারণে ভোট গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে, তবে অযথা বিলম্ব হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য এই মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন এবং তারা স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এবারের নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফেক নিউজের বিস্তার রোধ করে সত্য তুলে ধরাই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব।



