
বাংলা রিডার ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের টাকা লুটকারীদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। দুনিয়ার যেখানেই থাকুক না কেন, জনগণের হক স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে দিলে তারা প্রশংসার যোগ্য হবেন। আর না দিলে রাষ্ট্র শক্ত হাতে তা উদ্ধার করবে— কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের হক আত্মসাৎকারীদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। স্বেচ্ছায় টাকা ফেরত দিলে ভালো, না হলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তা আদায় করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘একটি দল মা-বোনদের সম্মান দিতে পারে না— এর প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে। তবে আধুনিক বিশ্বে মিথ্যা আক্রমণের জবাবও দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, উদ্ধার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে এবং যে অঞ্চল সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত, সেখানে উন্নয়ন কাজ আগে শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হব কি না, তা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে দায়িত্ব পেলে ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চিতেও আমি বেইনসাফি করব না। প্রতিটি ইঞ্চি মাটি তার পাওনা বুঝে নেবে।’
সিলেটের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবিগুলো সসম্মানে পূরণ করা হবে।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রবাসীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকা সত্ত্বেও সব এয়ারলাইন্স এখানে না নামার কারণ জনগণ জানতে চায়। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুট বন্ধ থাকা কেন— সেই প্রশ্নও রয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এসব রুট পুনরায় চালু করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার ফ্লাইট চালু করা হবে।
দুর্নীতি বন্ধ হলে দেশ বদলে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা করে যখন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, তখন পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চেহারা পাল্টে যাবে।’
প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত অনেক প্রবাসী স্বল্প আয়ে কষ্টের জীবন যাপন করেন। অনেক সময় ইন্তেকালের পর লাশ আনার ক্ষেত্রেও অবহেলা ও জটিলতা দেখা যায়। রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলা হলেও মৃত্যুর পর তাদের যেন কোনো অভিভাবক থাকে না— এই অবস্থা তিনি মানেন না বলে জানান।
শেষে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান, এই শহর আমারও শহর। একবার আমাদের সুযোগ দিন। আমরা আপনাদের মালিক হব না— আপনাদের সম্পদ, জীবন ও ইজ্জতের পাহারাদার হয়ে থাকব।’



