ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন

বাংলা রিডার ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোডম্যাপ প্রকাশ করেন।

ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী: নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, তফসিল ঘোষণা করা হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে, যেসব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, রাজনৈতিক দল ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন সম্পন্ন।

 যা আছে ইসির রোডম্যাপে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।

রোডম্যাপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য।

অংশীজনদের নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে।

১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ, ৩০ সেপ্টেম্বর জিআইএস ম্যাপ প্রকাশ।

ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ

৩০ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।

১ নভেম্বর প্রকাশ হতে পারে সম্পূরক ভোটার তালিকা।

নির্বাচনী আইন ও বিধি সংস্কার

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), সীমানা নির্ধারণ আইন, ভোটার তালিকা আইনসহ বেশ কয়েকটি আইন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্তকরণ।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০২৫, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নাধীন।

নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ।

অক্টোবরের প্রথমার্ধে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ।

প্রবাসী ও কারাবন্দিদের ভোটাধিকার

প্রবাসী ও কারাবন্দিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা।

প্রবাসী নিবন্ধন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ।

ব্যালট পেপার পাঠানো হবে ৫ জানুয়ারির মধ্যে; দেশে ফেরত আনা হবে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে।

কারাবন্দিদের কাছে ব্যালট পৌঁছাবে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে।

আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি

ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও প্যানেল তৈরি: অক্টোবরের মধ্যে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক: ২৫ সেপ্টেম্বর।

সফটওয়্যার প্রস্তুত: ৩১ অক্টোবরের মধ্যে।

নির্বাচনের সময় পর্যন্ত এআই ব্যবহার করে অপপ্রচার মনিটরিং।

দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন

১৫ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট প্রদান।

নির্বাচনি নির্দেশিকা, ম্যানুয়েল, পোস্টার, পরিচয়পত্র প্রস্তুত হবে একই সময়ের মধ্যে।

তফসিল ও নির্বাচন

তফসিল ঘোষণা: ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে

ভোটগ্রহণ: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে

আরও উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা

1. স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রস্তুত: ৩০ নভেম্বরের মধ্যে

2. নির্বাচন ভবনে ফলাফল প্রদর্শনের জন্য ডিজিটাল মনিটর স্থাপন: ডিসেম্বরের মধ্যে

3. বাজেট বরাদ্দ পরিকল্পনা প্রণয়ন: ১৫ নভেম্বরের মধ্যে

4. পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও ফেরত আনা: জানুয়ারি ২০২৬

5. নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ: ৭৫ জনকে দুইদিন প্রশিক্ষণ

6. ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ: ৪৫–৪৬ দিনের জন্য

7. ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: ভোটের ২৫ দিন আগে

8. এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপপ্রচার প্রতিরোধ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এই রোডম্যাপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন একটি পরিকল্পিত, অংশগ্রহণমূলক ও সুশৃঙ্খল জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা উপস্থাপন করেছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You