চাঁদপুরে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পদের তথ্য

বাংলা রিডার ডেস্ক
২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে নামবেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তবে ব্যানার ও লিফলেট ব্যবহারের অনুমতি থাকছে। ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে প্রত্যেক প্রার্থী সর্বনিম্ন ২৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৭৪ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয় করতে পারবেন।

চাঁদপুর জেলায় রয়েছে ৮টি উপজেলা, ৭টি পৌরসভা, ৮৯টি ইউনিয়ন ও ১ হাজার ৩৬৫টি গ্রাম। যদিও প্রশাসনিকভাবে জেলা বড়, জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা পাঁচটি। আসনগুলো হলো—
২৬০: চাঁদপুর-১ (কচুয়া),
২৬১: চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ),
২৬২: চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচর),
২৬৩: চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ),
২৬৪: চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি)।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সর্বশেষ হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ৩১ হাজার ২৩৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৪ জন, পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ১ হাজার ৬৪৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১১ জন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৭০৬টি এবং ভোটকক্ষ ৪ হাজার ২৬০টি। পাঁচ আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ২৮ জন।

আসন্ন নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হলফনামায় উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পদের বিবরণ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী তুলে ধরা হয়েছে।

হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিএনপি মনোনীত অধিকাংশ প্রার্থী কোটিপতি। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থীরা মূলত শিক্ষক, আইনজীবী ও চিকিৎসকসহ পেশাজীবী শ্রেণির। এক বিএনপি প্রার্থী নগদ অর্থ কম দেখালেও তিনটি দামি গাড়ির মালিক। আবার সাবেক প্রতিমন্ত্রী একজন প্রার্থীর টকশো থেকে বার্ষিক আয় দেড় লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া)
বিএনপি প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন পেশায় রাজনীতিক। তাঁর নগদ সম্পদ ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে বছরে আয় ৬ লাখ এবং টকশো থেকে দেড় লাখ টাকা। দুটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি।
জামায়াত প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুর আহমদ পেশায় শিক্ষক। তাঁর নগদ সম্পদ ৩১ লাখ টাকার বেশি। বার্ষিক আয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ)
বিএনপি প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন একজন ব্যবসায়ী। তাঁর নগদ সম্পদ ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেশি। একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক।
জামায়াত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোহাম্মদ আবদুল মোবিন পেশায় চিকিৎসক। তাঁর নগদ সম্পদ প্রায় ১৬ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস।

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর)
বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক একজন ব্যবসায়ী। তাঁর নগদ সম্পদ ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি। দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি গাড়ি রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক।
জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান মিয়া পেশায় আইনজীবী। তাঁর নগদ সম্পদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ ও এলএলবি।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)
বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি লায়ন মো. হারুনুর রশিদ পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর নগদ সম্পদ প্রায় ২৬ লাখ টাকা। তিনটি গাড়ির মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ।
জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেশায় শিক্ষক। তাঁর নগদ সম্পদ মাত্র ২০ হাজার টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ ও বিএড।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি)
বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মমিনুল হক পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর নগদ সম্পদ প্রায় ২৫ লাখ টাকা। একটি মোটরসাইকেল রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং।
জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. আবুল হোসাইন পেশায় শিক্ষক। তাঁর নগদ সম্পদ ১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ৫০ হাজার টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল।

হলফনামায় উল্লেখিত এসব তথ্য ভোটারদের অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You