নির্বাচনে অনিয়ম ও অপরাধের কোনো সুযোগ নেই: ডিসি

বাংলা রিডার ডেস্ক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এবং পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান।

সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও কঠোরতা নিয়ে কাজ করবে। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যে নতুন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ না করলেও ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহে নতুন প্রজন্মের আত্মত্যাগ আমরা দেখেছি। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

নির্বাচন ও গণভোট নির্বিঘ্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাসী তৎপরতা বা অপরাধ সহ্য করা হবে না। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প বৃদ্ধি, র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপনসহ নৌ-পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও পুলিশ বাহিনী স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারীদের অঙ্গীকার আগামীতেও বজায় থাকবে—এটাই প্রশাসনের প্রত্যাশা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. রবিউল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনো ধরনের তদবির বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। ভোটাররা যাতে নিরাপদ পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, তাহলে নির্বাচন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হবে। জনগণ পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়—তারা পরিবর্তন প্রত্যাশা করে। সুষ্ঠু নির্বাচনই সেই পরিবর্তনের পথ সুগম করতে পারে।

পুলিশ সুপার জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণেই চলমান পরিবর্তনের ধারার পরিপূর্ণতা আসবে।

সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী, সাংবাদিকদের পক্ষে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, জুলাই যোদ্ধা নামজুস সাকিব, আলেম সমাজের পক্ষে মাওলানা মমিনুল ইসলাম খান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষে ডা. পরেশ চন্দ্র পাল, শিক্ষকদের পক্ষে হারুন-অর-রশিদ এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের পক্ষে মো. শাহাজাহান বিএসসি।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মঞ্জিল হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইউনুছ হেলাল, জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিয়াজী, গণফোরামের মামুন গাজী ও ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রাজু। ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী হায়দার টিপু পাঠান।

এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. আর. এম. জাহিদ হাসান, ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You