
বাংলা রিডার ডেস্ক
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো। একই সঙ্গে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে ওপেনিং স্টেটমেন্ট ও সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে গত ৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশন দাবি করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে পরস্পর পরামর্শ ও উসকানি দেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
তবে আসামিপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে অডিওর সত্যতা যাচাইয়ের আবেদন জানালেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করেন। আসামিপক্ষে ওইদিন শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, ষড়যন্ত্র এবং সিস্টেমেটিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মিরপুরে ১৪ জন এবং ৫ আগস্ট মিরপুরের ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আরও ১৬ জনকে হত্যা করে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে আসামিরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত টেলিফোন কথোপকথনে সালমান ও আনিসুলকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। সেখানে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দিতে হবে’—এমন মন্তব্য হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রসিকিউশন উল্লেখ করে।
এর আগে ২২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং গত ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আটক করা হয়। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


