
বাংলা রিডার ডেস্ক
জুলাই গণআন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা, সমন্বয়ক এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আন্দোলনের সম্মুখসারির কয়েকজন নেতাকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে এবং কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।
যাদের নাম এই তালিকায় রয়েছে, তারা হলেন— অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে নির্বাচন ঘিরে নাশকতার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় নেতারা গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই নিয়মিত হুমকির মুখে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব হুমকির বিষয়টি সরকারের গোয়েন্দা নজরদারিতেও উঠে এসেছে।
সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনে যুক্ত নেতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছ থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পাচ্ছেন।
আবেদনের ভিত্তিতে শিগগিরই কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হতে পারে। তাদের মধ্যে রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, বিএনপির কয়েকজন মনোনীত প্রার্থী, জাতীয় পার্টি ও এলডিপির শীর্ষ নেতারাও।
এদিকে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকেও বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। তার এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেওয়া হবে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে অগ্রাধিকার অনুযায়ী নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনীতে সীমিত জনবল থাকায় সবাইকে গানম্যান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লিখিত আবেদনের ভিত্তিতেই নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত ১২ জন লিখিত আবেদন করেছেন এবং এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে।
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, যাদের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের অনেককেই ইতোমধ্যে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। তবে সবাই রাজনীতিক কি না— সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি।



