
বাংলা রিডার ডেস্ক
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পর এবার প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় দণ্ডিত হলেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা আকারের তিনটি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেন।
মামলাটিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও আসামি। পরিবারের তিন সদস্যসহ মোট ২৩ অভিযুক্তের মধ্যে কেবল একজন—রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম—গ্রেফতার আছেন এবং রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারসহ রাজউকের বিভিন্ন সাবেক সদস্য ও কর্মকর্তারা।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ৫ বছরের কারাদণ্ড পান।
আজ ঘোষিত রায়টি শেখ হাসিনার প্রথম দুর্নীতি মামলার রায়। তিনি, তার ছেলে-মেয়েসহ অন্যান্য আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি এবং তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী যুক্তিতর্কে অংশ নেননি।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ উন্মোচিত হতে থাকে।
দুদক গত জানুয়ারিতে পূর্বাচল প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার ছেলে-মেয়ে, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ মোট ছয়টি মামলা করে।
হাসিনাকে সব ছয় মামলায় আসামি করা হয়। তার পরিবারের তিন মামলার বিচার একসঙ্গে এবং রেহানা পরিবারের মামলাগুলোর বিচারও আলাদা আদালতে একসঙ্গে চলছে।
গত ৩১ জুলাই এসব মামলায় মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে হাসিনা পরিবারের মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। রেহানা পরিবারের একটি মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় সে মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে।


