সুরা যিলযালের বর্ণনায় ভূমিকম্পের ভয়াবহতা

বাংলা রিডার ডেস্ক

সুরা যিলযাল বা ‘যিলযালা’ আল-কুরআনের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গভীর তাৎপর্যপূর্ণ সুরা, যেখানে কিয়ামতের দিন সংঘটিত মহাভূমিকম্পের ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ সুরায় বলা হয়েছে, সেই দিন পৃথিবী এমন প্রবলভাবে কেঁপে উঠবে যে মানুষ হতবাক হয়ে যাবে, আর পৃথিবী নিজের ভেতরের সব গোপন তথ্য ও আমল প্রকাশ করে দেবে।

এই সুরায় কিয়ামতের ভূমিকম্পকে সাধারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে নয়, বরং মানবজাতির হিসাব-নিকাশের সূচনা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। মানুষ তখন প্রশ্ন করবে, “এর কী হচ্ছে?”— কারণ সেই দিনের কম্পন হবে অভূতপূর্ব ও অপ্রতিরোধ্য।

সুরাটি মনে করিয়ে দেয়, মানুষের প্রতিটি কাজ—সেটি যত ছোটই হোক—আল্লাহর নিকট লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং সেই দিন তা প্রকাশ পাবে। সুরা যিলযাল তাই ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাধ্যমে কিয়ামতের বাস্তবতা ও মানুষের জবাবদিহির গুরুত্ব স্পষ্ট করে তুলে ধরে।

পবিত্র কোরআনের অর্ধেক বলা হয়েছে সুরা যিলযালকে। এ সম্পর্কে সাহাবি হজরত আনাস ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) সুরা যিলযালকে কোরআনের অর্ধেক, সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ এবং সুরা কাফিরূনকে কোরআনের এক চতুর্থাংশ বলেছেন। (মাযহারী, তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন, ৮/৮৪৩)

এই সুরার প্রথম আয়াতে কিয়ামত শুরুর মুহূর্ত এবং সেই মুহূর্তের ভূমিকম্পের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, কিয়ামতের আগে যখন শিঙ্কায় ফুৎকার দেওয়া হবে তখন ভূমিকম্পের কারণে পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠবে। আর সব কিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। প্রথমবার শিঙ্কায় ফুঁৎকার দেওয়ার সময় এই অবস্থা হবে।

পরের আয়াতে দ্বিতীয় ফুঁৎকারের পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়েছে। এবং বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ফুঁৎকারে মাটির নিচে যত মানুষ দাফন আছে, তাদেরকে এবং খনিজ পদার্থ ও গুপ্ত ধনগুলোকে জমিন বাইরে বের করে এনে ফেলে দেবে এবং যাবতীয় মৃতকে বের করে হাশরের মাঠের দিকে চালিত করবে।

কোনো কোনো মুফাসসির এর মতে, সোনা, রূপা, হীরা, মণি-মাণিক্য এবং অন্যান্য যেসব মূল্যবান সম্পদ ভূ-গর্ভে সঞ্চিত রয়েছে সেগুলোর বিশাল বিশাল স্তুপও সেদিন জমিন উগলে দেবে।

পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে, ফুঁৎকারের পর মানুষ পুনরায় জীবন লাভ করে চেতনা ফিরে পাবার সাথে সাথেই প্রত্যেক ব্যক্তির প্রথম প্রতিক্রিয়া এমন হবে যে, এসব কি হচ্ছে? এটা যে হাশরের দিন একথা সে পরে বুঝতে পারবে।

এর পরবর্তী আয়াত তিলাওয়াত করে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জান, পৃথিবীর বৃত্তান্ত কি?’ সাহাবীগণ (রা.) বললেন, আল্লাহ এবং তার রাসুলই ভাল জানেন।

নবীজি (সা.) বললেন, ‘তার বৃত্তান্ত এই যে, নারী অথবা পুরুষ এ মাটির উপর যা কিছু করছে এই মাটি তার সাক্ষী দেবে। আর বলবে, অমুক অমুক ব্যক্তি অমুক অমুক দিনে অমুক অমুক কর্ম করেছে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৩৭৪)

জমিন মানুষের সব কাজের কথা বলে দিবে কারণ, আল্লাহ তায়ালাই সেদিন মাটিকে কথা বলার শক্তি দেবেন।

সুরা যিলযাল

اِذَا زُلۡزِلَتِ الۡاَرۡضُ زِلۡزَالَہَا ۙ ١ وَاَخۡرَجَتِ الۡاَرۡضُ اَثۡقَالَہَا ۙ ٢ وَقَالَ الۡاِنۡسَانُ مَا لَہَا ۚ ٣ یَوۡمَئِذٍ تُحَدِّثُ اَخۡبَارَہَا ۙ ٤ بِاَنَّ رَبَّکَ اَوۡحٰی لَہَا ؕ ٥ یَوۡمَئِذٍ یَّصۡدُرُ النَّاسُ اَشۡتَاتًا ۬ۙ  لِّیُرَوۡا اَعۡمَالَہُمۡ ؕ ٦ فَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّۃٍ خَیۡرًا یَّرَہٗ ؕ ٧ وَمَنۡ یَّعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّۃٍ شَرًّا یَّرَہٗ ٪

সুরা যিলযালের অর্থ

যখন পৃথিবীকে আপন কম্পনে ঝাঁকিয়ে দেওয়া হবে। এবং ভূমি তার ভার বের করে দেবে, এবং মানুষ বলবে, তার কী হল?,সে দিন পৃথিবী তার যাবতীয় সংবাদ জানিয়ে দেবে। কেননা তোমার প্রতিপালক তাকে সেই আদেশই করবেন। সে দিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে, কারণ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হবে। সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলে সে তা দেখতে পাবে। এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করে থাকলে তাও দেখতে পাবে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোষ্ট

 

 

 

 

 

 

 

বিজ্ঞাপন

Recommended For You