শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

বাংলা রিডার ডেস্ক
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঁচ দিনব্যাপী যুক্তিতর্ক শেষে এই দাবি জানিয়েছেন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। একজন মানুষকে হত্যার জন্য যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে ১৪০০ জনের জন্যও একই শাস্তি হওয়া উচিত। যদিও আইনে তা সম্ভব নয়, তবে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করছি যেন জনগণ ন্যায়বিচার পায়।”

এছাড়া তিনি দাবি করেন, বিদেশে পালিয়ে থেকেও শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের হত্যার হুমকি দিয়ে গেছেন। এমনকি যারা বিচার দাবি করে মামলা করেছেন, তাদের নির্মূল করার কথা বলেছেন। প্রসিকিউটরের ভাষায়, “শেখ হাসিনা কোনো অনুশোচনা না করে একজন ‘হার্ডনট ক্রিমিনাল’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।”

প্রসিকিউটরের অভিযোগ অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান খান কামাল ‘গ্যাং অব ফোর’-এর সদস্য হিসেবে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তার বাড়িতে বসেই পরিকল্পনা হয় ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে হামলার। তিনি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নজরদারি করতেন এবং ভিডিও ফুটেজ দেখতেন। তিনি কমান্ড চেইনের দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন বলে তারও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে সহায়তা করেছেন। তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশন আদালতের কাছে অনুরোধ করেছে, নিহত ও আহতদের পরিবার যেন ক্ষতিপূরণ পায়, সেই জন্য অভিযুক্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হোক।

মামলার অগ্রগতি

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠিত হয়: ১০ জুলাই, মোট সাক্ষী: ৮১ জন, অভিযোগপত্র: ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা, যুক্তিতর্ক শুরু: ১২ অক্টোবর

বিচারক প্যানেলের নেতৃত্বে: বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার

মামলার তদন্ত শেষ: ১২ মে

এই মামলায় শেখ হাসিনা, কামাল এবং মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। তদন্তে বিপুল প্রমাণ, সাক্ষ্য ও নথি উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You