
বাংলা রিডার ডেস্ক
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচারকাজ শুরুর আদেশ দিয়েছেন। এদিন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৪ আগস্ট, সিআইডি শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জন আসামির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২১, ১২১(ক) ও ১২৪(ক) ধারায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
সিআইডি জানায়, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বি আলম এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের আরও প্রভাবশালী নেতা।
সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর, ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জুম মিটিং আয়োজন করা হয়। দেশ ও বিদেশ থেকে অনেকে এতে অংশ নেন। সিআইডির ভাষ্যমতে, সেই সভায় অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের আহ্বান, গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনা এবং পলাতক শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার মত রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য উঠে আসে।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও ভয়েস রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এরপর স্বল্প সময়ে সাক্ষ্য ও আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শেষ করে সিআইডি।
মামলায় মোট ২৮৬ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৯১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যাদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্য মামলায় আটক ছিলেন। বাকী ১৯৫ জন পলাতক, যাদের মধ্যে শেখ হাসিনাও রয়েছেন বলে জানায় সিআইডি।
আসামিদের অধিকাংশই আদালতে অনুপস্থিত থাকায়, আদালত জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনা দিয়ে অনুপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধেই বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।


