ফোনালাপে কর্নেল রাজিবকে শেখ হাসিনা: “এবার আর কোনো কথা নাই, শুরুতেই দিবা”

বাংলা রিডার ডেস্ক

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একের পর এক ফোনালাপ প্রকাশিত হচ্ছে। তাপস ও ইনুর সঙ্গে কথোপকথনের পর এবার সামনে এলো উপ-সামরিক সচিব কর্নেল রাজিব আহমেদের সঙ্গে একটি ফোনালাপ, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আরও একজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১-এ দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতে যুক্তিতর্ক শুরু করার আগে ‘জুলাই-আগস্ট আন্দোলন’ নিয়ে ডেইলি স্টার-এর একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এতে আন্দোলন দমনে সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার ভূমিকার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

প্রামাণ্যচিত্রে এক পর্যায়ে দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের প্রসঙ্গ ওঠে। এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সেই ফোনালাপটি ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়।

ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়:

“ওরা কিন্তু জায়গায় জায়গায় এখন জমায়েত হতে শুরু করেছে। মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং বিভিন্ন জায়গায়। শুরুতেই কিন্তু ইয়ে… করতে হবে, একদম শুরুতেই। ধাওয়া দিলে এরা গলিতে গলিতে থাকবে। এবার আর কোনো কথা নাই। এবার শুরুতেই দিবা।”

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে বলেন, কথোপকথনের অপর প্রান্তে ছিলেন কর্নেল রাজিব আহমেদ, যিনি শেখ হাসিনার তৎকালীন উপ-সামরিক সচিব (ডিএসপিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

তিনি আরও বলেন, “এই ফোনালাপে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর শেষ কথা ছিল—‘এবার আর কোনো কথা নাই। এবার শুরুতেই দিবা।’ অর্থাৎ, কোনো সতর্কবার্তা নয়, সরাসরি সহিংস দমন।”

এর আগে রবিবার মামলার প্রথম দিনের যুক্তিতর্কে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষ। চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, এসব তথ্য মামলার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ মামলার শুনানি পরিচালনা করছেন।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে।

সূত্র: আদালত

বিজ্ঞাপন

Recommended For You