
বাংলা রিডার ডেস্ক
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে ট্রাম্প গ্রেটাকে ‘রাগী’ ও ‘সমস্যাসৃষ্টিকারী’ বলে মন্তব্য করে বলেন, “তার রাগের চিকিৎসা দরকার।” এই মন্তব্যের জবাবে থুনবার্গ ইনস্টাগ্রামে কটাক্ষের সুরে লেখেন: “আমি শুনেছি ট্রাম্প আবারও আমার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তার চিরচেনা ‘মুগ্ধকর’ মতামত দিয়েছেন। তার উদ্বেগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও লেখেন, “যদি তার কাছে রাগ নিয়ন্ত্রণে ভালো কোনো পরামর্শ থাকে, জানাতে পারেন। কারণ তার নিজেকেই সেটা সবচেয়ে বেশি দরকার বলে মনে হয়।”
সম্প্রতি ইসরায়েলের হাতে আটক হওয়ার পর মুক্তি পান গ্রেটা। এরপরই ট্রাম্প বলেন, “সে পরিবেশ আন্দোলনে নেই, বরং এখন কেবল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তার রাগ আছে, চিকিৎসা নেওয়া উচিত।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “তুমি কি কখনও ওকে লক্ষ করেছ? সে এক ভয়ানক রাগী তরুণী। প্রায় পাগলাটে।”
আগেও হয়েছে এমন বাকযুদ্ধ। এটাই প্রথম নয়। গ্রেটা ও ট্রাম্পের মধ্যে বাকযুদ্ধের ইতিহাস বেশ পুরনো।
২০১৯ সালে জাতিসংঘে গ্রেটার জলবায়ুবিষয়ক ভাষণের পর ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন, “সে খুবই সুখী এক তরুণী, যার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে।”
গত জুনেও ট্রাম্প তাকে ‘অদ্ভুত’ ও ‘রাগী’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যখন গ্রেটা গাজায় মানবিক ত্রাণবাহী ফ্লোটিলা অভিযানে অংশ নিচ্ছিলেন। তখন গ্রেটা জবাবে বলেন, “বিশ্ব এখন আরও বেশি রাগী নারীর প্রয়োজন।”
২০১৮ সালে ‘Fridays for Future’ আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া গ্রেটা থুনবার্গ এখন শুধু জলবায়ু নয়, মানবাধিকার ও গাজার জনগণের সহায়তা কার্যক্রমেও সক্রিয়।
ইসরায়েলে আটক হওয়ার পর সোমবার তিনি গ্রিসে পৌঁছান, যেখানে তাকে প্রায় ১৬০ জন কর্মী ও সমর্থক স্বাগত জানান।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গাজার উদ্দেশে যাওয়া ৪২টি নৌযান থেকে ১৭১ জন কর্মীকে আটক করে পরে বিভিন্ন দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গ্রেটার সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আক্রমণে তিনি একটুও বিচলিত নন—বরং তা কৌশলে ব্যবহার করে নিজের বার্তা আরও জোরালো করছেন।


