ইসরায়েলি জাহাজে ঘেরাও সুমুদ ফ্লোটিলা : গাজার উদ্দেশে যাত্রা

বাংলা রিডার ডেস্ক
গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে যাওয়া আন্তর্জাতিক নৌবহর সুমুদ ফ্লোটিলাকে ঘিরে ফেলেছে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ। ফ্লোটিলা জানিয়েছে, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছালে ইসরায়েলি নৌযানগুলো তাদের জাহাজের আশপাশে বিপজ্জনকভাবে ঘোরাফেরা শুরু করে এবং সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে ফেলে। আয়োজকদের দাবি, এটি ছিল একটি ‘‘সাইবার হামলা’’।

ফ্লোটিলার দুই জাহাজ আলমা ও সিরিয়াসকে ঘিরে ফেলেছে দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কিছু যোগাযোগ ব্যবস্থা جزويভাবে ফিরে এসেছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

এই মানবিক মিশনে রয়েছে ৪০টিরও বেশি জাহাজ ও নৌকা। যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, সংসদ সদস্যসহ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।

ফ্লোটিলা জানায়, তাদের শান্তিপূর্ণ অভিযানে ইসরায়েলের এমন আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এতে নিরস্ত্র যাত্রীদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। তবুও তারা গাজার দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে বহরটিকে কয়েকবার ড্রোন হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। ড্রোন থেকে স্টান গ্রেনেড ও চুলকানি সৃষ্টিকারী গুঁড়া ছোড়া হয়। তবে এতে কেউ আহত হয়নি।

ইতালি ও স্পেন জানিয়েছে, তারা ফ্লোটিলার সহায়তায় নৌকা পাঠালেও সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। গাজা উপকূল থেকে ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরত্ব পেরুলেই তারা নিরাপত্তার কারণে সরে যাবে। তুরস্কও ড্রোন দিয়ে ফ্লোটিলার গতিবিধি নজরদারি করছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি অধিকারের বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেন, ফ্লোটিলা আটকালে তা হবে সমুদ্র আইন লঙ্ঘন। কারণ গাজার জলসীমায় ইসরায়েলের আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে গাজায় ত্রাণ পাঠানোর একটি অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৯ জন নিহত হন। এবারও ইসরায়েল বলেছে, গাজার উদ্দেশ্যে যেকোনো ত্রাণ মিশন ঠেকাতে তারা প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

সুমুদ ফ্লোটিলা বৃহস্পতিবার সকালে গাজার উপকূলে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You