শেখ হাসিনার মামলায় ১৭টি ভিডিও উপস্থাপন, সরাসরি সম্প্রচার

বাংলা রিডার ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৫৪তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর রবিবার ১৭টি ভিডিও উপস্থাপন করেছেন। আদালতের এই কার্যক্রম গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

দুপুরে বিরতির পর মো. আলমগীর তার সাক্ষ্য প্রদান শুরু করেন। এ সময় প্রসিকিউশন টিমে উপস্থিত ছিলেন মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, তানভীর হাসান জোহা ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন।

এর আগের দিন, শনিবার প্রসিকিউটর তামীম জানান, মো. আলমগীর এই মামলার শেষ ও ৫৪তম সাক্ষী। তার জবানবন্দির অংশ এবং উপস্থাপিত ভিডিওগুলো সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মামলার ৫৩তম সাক্ষী ছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা, যিনি গত বুধবার আদালতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্ত ৬৯টি ফোনালাপের অডিও এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের কললিস্ট (সিডিআর) জব্দ করার তথ্য উপস্থাপন করেন। এদিন শেখ হাসিনার চারটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয়, যার মধ্যে ছিল— তার আত্মীয় ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু (দুটি আলাপ),
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামালের সঙ্গে আলাপ।

এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

মামলার তদন্ত শুরু করেছিলেন তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জানে আলম খান। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব নেন মো. আলমগীর এবং সহযোগিতা করেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। মো. আলমগীর গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেশ করা হয়।

চলতি বছরের ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়। একইসঙ্গে, মামলার এক আসামি, সাবেক আইজিপি মামুন ‘রাজসাক্ষী’ হতে আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা অনুমোদন করে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You