সংগীতজীবনের ইতি টানলেন তাহসান

বাংলা রিডার ডেস্ক
দীর্ঘ ২৫ বছরের সংগীত ক্যারিয়ারের পর গান ছাড়ার ঘোষণা দিলেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক কনসার্টে ভক্তদের সামনে তিনি এ ঘোষণা দেন, যা ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

রোববার রাতে মেলবোর্নের কনসার্টে গান গাইতে গাইতে হঠাৎ মাইক্রোফোনে তাহসান বলেন,
“অনেকেই বলছেন এটা আমার শেষ কনসার্ট। এটা আসলে শেষ ট্যুর। ধীরে ধীরে সংগীতজীবন থেকে সরে দাঁড়াতে চাই। এটা একদম স্বাভাবিক ব্যাপার। সারাজীবন কি মঞ্চে দাঁড়িয়ে লাফানো যায়! মেয়ে বড় হয়ে গেছে, এখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘দূরে তুমি দাঁড়িয়ে’ গাওয়া একটু অদ্ভুতই লাগে।”

তাহসানের এই ঘোষণা শুনে কনসার্টে উপস্থিত হাজারো দর্শক হতবাক হয়ে যান। কারও কারও চোখে জলও দেখা গেছে। যদিও আবেগঘন মুহূর্তেও তাহসান নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন এবং গান চালিয়ে যান।

ঘোষণার কিছুদিন আগেই ভক্তরা দেখতে পান তাহসানের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দুটিই বন্ধ। দুই প্ল্যাটফর্মেই তার মিলিয়ন সংখ্যক ফলোয়ার ছিল—ফেসবুকে প্রায় এক কোটি আর ইনস্টাগ্রামে ৩৫ লাখের বেশি। তবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ নিয়ে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেননি।

সোমবার এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তাহসান বলেন, “একটা সাধারণ, স্বাভাবিক জীবন চাওয়ার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

১৯৯৮ সালে ‘ব্ল্যাক’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীতজগতে আত্মপ্রকাশ করেন তাহসান। এরপর ‘আমার পৃথিবী’ অ্যালবামের মাধ্যমে ব্যান্ডটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। ২০০৪ সালে ‘কথোপকথন’ অ্যালবামের মাধ্যমে একক ক্যারিয়ার শুরু করেন তাহসান। এরপর একে একে আসে ‘কিছু কথা’, ‘ঈর্ষা’, ‘উৎসবের পর’, ‘অবাক ভালোবাসা’সহ অসংখ্য হিট অ্যালবাম ও গান। তার গানে প্রেম, বিরহ আর বাস্তব জীবনের ছাপ মুগ্ধ করেছে কয়েক প্রজন্মের শ্রোতাকে।

বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় রজতজয়ন্তী (২৫ বছর পূর্তি) উপলক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক ট্যুরে রয়েছেন। ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড ও সিডনির কনসার্টে ভক্তদের ভালোবাসায় ভেসেছেন। তবে মেলবোর্নে সেই ভালোবাসার মাঝেই দিলেন বিদায়ঘোষণা। সামনে পার্থ শহরে আরেকটি কনসার্ট থাকলেও এরপর ধীরে ধীরে সংগীত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাহসান আগেও বহুবার জানিয়েছেন, সংগীত তার কাছে সবসময়ই আবেগের জায়গা ছিল। তবে বয়স, সময় ও পরিবারের দায়বদ্ধতা তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। মেয়ের বড় হয়ে ওঠা, নিজের ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য—সবকিছু মিলিয়ে মঞ্চের ঝলমলে জীবনের পেছনে এবার একটু ছায়া খুঁজতে চান তিনি।

তার এই ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের আবেগ উথলে পড়েছে। অনেকে লিখেছেন,
“আমরা প্রস্তুত ছিলাম না এই বিদায়ের জন্য।”
তবে অনেকে আবার আশা করছেন, সময়ের সঙ্গে হয়তো বদলাবে তাহসানের সিদ্ধান্ত।

কিন্তু তাহসান নিজেই বলছেন, “ফেরার সম্ভাবনা নেই। এবার নিজের জীবনের দিকে ফিরবো।”

বাংলা গানের ইতিহাসে তাহসানের যাত্রা যেমন প্রভাবশালী, তেমনি তার বিদায়ও হয়ে রইল আবেগঘন এবং ইতিহাসের অংশ।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You