
বাংলা রিডার ডেস্ক
দেশের সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি–এর উপস্থাপক এ কে এম হানিফ, যিনি হানিফ সংকেত নামে বেশি পরিচিত, তাকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মোট ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ মরণোত্তরভাবে সম্মাননা পাচ্ছেন।
হানিফ সংকেত এর আগে ২০১০ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক অর্জন করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় পরিবেশ পদক ও মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন হানিফ সংকেত। তিনি একাধারে উপস্থাপক, নির্মাতা, লেখক ও প্রযোজক। ১৯৮৯ সালে শুরু করেন তার বহুল জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি, যার রচয়িতা ও পরিচালকও তিনি নিজেই। এর আগে প্রয়াত ফজলে লোহানী–র উপস্থাপিত ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি প্রথম পরিচিতি পান।
‘ইত্যাদি’তে কেবল বিনোদন নয়, সমাজের নানা অসঙ্গতি ও সমসাময়িক ঘটনাকে ব্যঙ্গ-রম্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন তিনি। সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে অনুষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
নাট্যনির্মাতা হিসেবেও তার সাফল্য রয়েছে। তার পরিচালিত জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’, ‘কুসুম কুসুম ভালোবাসা’ ও ‘শেষে এসে অবশেষে’।
এছাড়া তিনি ব্যঙ্গ ও রম্যধর্মী একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। উপস্থাপনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং সংগীতেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। জেলা ভিত্তিক প্যারোডি গানের সুরারোপ ও কণ্ঠদানেও রয়েছে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ।



