সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতামত নিচ্ছে বিএনপি, প্রস্তুতি একক প্রার্থী ঘোষণার

বাংলা রিডার ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরোদমে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতামত নিতে শুরু করেছেন।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বরিশাল বিভাগের চারটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করেন তারেক রহমান।

সূত্র জানায়, আসনগুলো হলো বরিশাল-২, বরিশাল-৫, ঝালকাঠি-২ ও পটুয়াখালী-২। প্রত্যেক আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে এলাকার সাংগঠনিক অবস্থা, নির্বাচনি কর্মকাণ্ড ও দলীয় অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়।

ঐক্যের বার্তা ও কৌশলগত নির্দেশনা
মতামত নেওয়ার সময় ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—সম্ভাব্য সব প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। একক প্রার্থী নির্ধারিত হলে, সবাই মিলে তাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরাও জানান, তারা ঐক্যবদ্ধভাবেই প্রচারে অংশ নেবেন এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করবেন।

সবুজ সংকেত বিতর্ক ও তার ব্যাখ্যা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক সম্ভাব্য প্রার্থী জানান, কিছু প্রার্থীকে “সবুজ সংকেত” দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠলে ডা. জাহিদ বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন, এখনো কারও প্রার্থীতা চূড়ান্ত হয়নি, এটি শুধুই মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, সারাদেশের ৩০০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে মতামত নেওয়া হবে। বর্তমানে তারেক রহমানের হাতে কেন্দ্রীয় জরিপ এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে পাঠানো তালিকা রয়েছে। সেই অনুযায়ী মতামত গ্রহণ চলছে।

তফসিল ঘোষণার আগেই অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জনসম্পৃক্ত নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে হবে। ডোর টু ডোর প্রচার, ৩১ দফার রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা, বিএনপি সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি—এসব নিয়েই মাঠে নামবে দলটি।

এই নির্বাচনি ঢেউ ছড়িয়ে দিতে ইতোমধ্যে সারাদেশের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল ও কুমিল্লা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডা. জাহিদ হোসেনকে। অন্য বিভাগগুলোতেও সিনিয়র নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে একই প্রক্রিয়ায় মতামত গ্রহণ কার্যক্রম চলবে।

বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, এই কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা, যাতে নির্বাচনে দলের সর্বোচ্চ সাফল্য নিশ্চিত করা যায়।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You